জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সেশনজট এক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগ ও চারটি ইনস্টিটিউটের মধ্যে অন্তত এক ডজন বিভাগ সেশনজটে তীব্রভাবে জর্জরিত, পাশাপাশি অধিকাংশ বিভাগগুলোও পড়েছে দুই থেকে তিন মাস সেশনজটের কবলে। এতে একদিকে যেমন অনেক শিক্ষার্থীরা বয়সের কারণে চাকরির প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়ছেন। অপরদিকে চরম মুদ্রাস্ফীতির বাজারে বাড়ছে শিক্ষার্থীদের ব্যয়, অনিশ্চয়তায় পড়ছে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন।
নিয়মিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ না করা, শ্রেণিকক্ষ সংকট, ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা, শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় ল্যাব স্বল্পতা এর মূল কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, উচ্চশিক্ষা জীবনের এই অনিশ্চয়তা শুধু ডিগ্রি অর্জনের সময়ই পিছিয়ে দিচ্ছে না, তা একটি তরুণের স্বপ্ন, পেশাগত পরিকল্পনা এবং জীবনের স্বাভাবিক গতিপথকেও বাধাগ্রস্ত করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্তত ছয় মাস থেকে এক বছরের সেশনজট রয়েছে চারুকলা, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব, ফার্মেসি, ইংরেজি, তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগে।
এছাড়াও, সেশনজটের কবলে রয়েছে প্রত্নতত্ত্ব, অর্থনীতি, লোক প্রশাসন, সরকার ও রাজনীতি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজি, গণিত, পরিবেশবিজ্ঞান, প্রাণীবিজ্ঞানসহ আরও বেশকিছু বিভাগ।
এসব বিভাগের ১৫ জন শিক্ষার্থীদের মতামত পেয়েছে প্রতিবেদক। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ক্লাসরুম সংকট, একাডেমিক রুটিন অনুযায়ী নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া, ফলাফল দিতে দেরি করা সেশনজটের প্রধান কারণ। তবে এ অবস্থার জন্য দীর্ঘদিনের ক্লাসরুম সংকট ও পরিবর্তিত পরিস্থিতিকেই দায়ী করছেন শিক্ষকরা।
ফলপ্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বিধি ২০০৩-এর ২০ (iii)-এ বলা হয়েছে, প্রতি পাঁচটি খাতার জন্য একদিন হিসেবে মোট সময় (দিন) হিসেব করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে খাতা দেওয়া হবে। আর বিধি ২৬ (iii)-এ বলা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষা শেষ হবার ৭৫ কর্মদিবসের মধ্যে অবশ্যই ফল প্রকাশ করতে হবে।
ফলপ্রকাশে দীর্ঘসূত্রতার সবচেয়ে খারাপ উদাহরণ পাওয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে। এ বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার ছয় মাস অতিক্রম করলেও এখনও ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৫ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি।
বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভাগের তিনটি ব্যাচ ৪৬, ৪৭ ও ৪৮তম ব্যাচ মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।
চারুকলা বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নুরুজ্জামান আশিক বলেন, “যেখানে আমাদের ব্যাচের অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা এখন মাস্টার্স করছেন, সেখানে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা কেবল চতুর্থবর্ষের ক্লাস শুরু করেছেন কিছুদিন আগে।”
ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক শ্বাশতী মজুমদার জানান, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকাসহ কয়েকটি কারণে রেজাল্ট দিতে দেরি হচ্ছে। এতে পরীক্ষা কমিটির কিছু করার নেই।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে চারুকলা বিভাগের সভাপতি মোহাম্মদ শামীম রেজা বিলম্বের দায় দ্বিতীয় পরীক্ষকের ওপর চাপিয়ে বলেন, “দ্বিতীয় পরীক্ষক অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হওয়ায় খাতা মূল্যায়নে দেরি হচ্ছে।”
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান বলেন, “প্রত্যেক পরীক্ষার জন্য একটি পরীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়। পরীক্ষা গ্রহণ থেকে ফলাফল প্রস্তুত সব দায়িত্ব ওই কমিটির। সমস্যা হলে বিভাগ জানালে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।”
ফল প্রকাশ ছাড়াই পরীক্ষার সময়সূচি
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয়বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ না করেই বিভাগের পক্ষ থেকে চতুর্থবর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল ৭৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তৃতীয়বর্ষের পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় আট মাস অতিক্রম করলেও এখনও ফলাফল প্রকাশ করেনি বিভাগটি। এর মধ্যেই ৭ সেপ্টেম্বর থেকে চতুর্থবর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে বিভাগটি।
বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৩ জুলাই) বিভাগের সভাপতি ও পরীক্ষা কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ রায়হান শরীফ এবং পরীক্ষা কমিটির সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক মন্ময় জাফরের যৌথ স্বাক্ষরে এ সময়সূচি প্রকাশ করা হয়।
চতুর্থবর্ষের শিক্ষার্থীরা জানান, ফলাফল ছাড়াই চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ যদি তৃতীয়বর্ষের কোনো কোর্সে উত্তীর্ণ না হয়ে থাকে, তাহলে তার পক্ষে একসঙ্গে তৃতীয় ও চতুর্থবর্ষের পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া কেউ মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিতে চাইলে সেটিও জটিল হয়ে উঠবে।
এছাড়াও, ইংরেজি বিভাগে পাঁচটি ব্যাচের জন্য মাত্র তিনটি ক্লাসরুম আছে। এ অবস্থায় ক্লাসরুম সংকটের কারণে ক্লাস ঠিকভাবে করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন একাধিক শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান বলেন, “বিভাগ চাইলে পরীক্ষার সময়সূচি দিতে পারে, তবে তৃতীয়বর্ষের রেজাল্ট প্রকাশের আগেই চতুর্থবর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করার নিয়ম নেই।”
তৃতীয়বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “একাধিকবার পরীক্ষকদের অনুরোধ করলেও তারা সময়মতো খাতা মূল্যায়ন করেননি। এমনকি একজন পরীক্ষক, যিনি কমিটির সদস্যও, তিনিও খাতা জমা দিয়েছেন সবার শেষে। প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এক ব্যাচের ফলাফল বিলম্ব হলে তা আরও অন্তত তিনটি ব্যাচকে প্রভাবিত করে। ফলাফল বিলম্বের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আমার কিছুই বলার নেই।”
চতুর্থবর্ষের পরীক্ষার রুটিন সম্পর্কে জানতে ইংরেজি বিভাগের সভাপতি ও পরীক্ষা কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ রায়হান শরীফ বলেন, “তৃতীয়বর্ষের ফলাফল দিতে বিলম্ব হওয়ার কারণ হচ্ছে আমাদের ছয়টি কোর্সের খাতা তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে যায়। এছাড়াও বিভাগের একজন শিক্ষক খাতা দিতে অনেক দেরি করেছেন। বর্তমানে তৃতীয়বর্ষের ফলাফল টেবুলেশন হচ্ছে। আমরা আশাবাদী সামনের সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে পারবো।”
শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে পরীক্ষা বন্ধ
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগে শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে পরীক্ষা বন্ধের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, স্নাতকোত্তর চূড়ান্ত পর্বের (৪৮তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের ক্লাস শেষ হয়েছে তিন মাস আগে। তবে এখন অবধি নেওয়া হয়নি পরীক্ষা।
বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিভাগটিতে স্নাতকোত্তরে দুই পর্বে পরীক্ষা হয়। প্রথম পর্বের পরীক্ষা শেষ হয়েছে গত বছরের ২১ নভেম্বর। এরপর দ্বিতীয় বা চূড়ান্ত পর্বের ক্লাস ও শ্রেণি মূল্যায়ন (টিউটোরিয়াল) পরীক্ষা শেষ হয় চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল। কিন্তু এখনও পরীক্ষা শুরু হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৪৮তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের। দ্রুত সমস্যা সমাধান না হলে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।
এর আগে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ওই বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাজিদ ইকবাল অভিযোগ করেন, “তার থিসিসে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পরীক্ষক হিসেবে অধ্যাপক শফিক-উর রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক লুৎফর রহমান কম নম্বর দিয়েছেন। ওই দুজনকে এ কাজের জন্য প্রভাবিত করেছেন একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আফসানা হক।”
উল্লিখিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সাজিদ ইকবালের এমন অভিযোগ “সত্য নয়” দাবি করে গত ১৬ এপ্রিল বিভাগে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। পরে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গাণিতিক ও পদার্থবিজ্ঞান অনুষদের ডিনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এতে এ ঘটনার জেরে বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাসফিয়া নাহরিন বলেন, “সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছে প্রশ্নপত্র চাওয়া হয়েছে, সেগুলো পেলে আমরা পরীক্ষা নেব। বিভাগের সভাপতি (অধ্যাপক আনিসা নূরী) হেল্পফুল নন। এ ছাড়া বিভাগের পরীক্ষাসংক্রান্ত গোপনীয় বিষয় কে বা কারা ফাঁস করে বিভাগের সুনাম নষ্ট করেছেন—এসব নিয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। বিষয়গুলো তদন্তে উঠে আসার পর সমাধান হলে শিক্ষকেরা হয়তো প্রশ্নপত্র দেবেন। তখন পরীক্ষা নেওয়া যাবে।”
একই কথা জানিয়েছেন ব্যাচটির স্নাতকোত্তরের একটি কোর্সের শিক্ষক অধ্যাপক শফিক-উর রহমান। তিনি বলেন, “সম্প্রতি বিভাগের সভাপতির বিরুদ্ধে অতি গোপনীয় বিষয় ফাঁসের সন্দেহ বা অভিযোগে ২-৩ জন ছাড়া অধিকাংশ শিক্ষক পরীক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করছেন না।”
সার্বিক বিষয়ে জানতে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আনিসা নূরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
তদন্ত কমিটির প্রধান গাণিতিক ও পদার্থবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাহবুব কবির বলেন, “তদন্তের কাজ প্রায় শেষের দিকে। দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, “শিক্ষকদের মধ্যে দুইপক্ষের দ্বন্দ্বে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। উপাচার্য দেশের বাইরে আছেন, তিনি দেশে এলে আমরা প্রয়োজনে প্রশাসনিক সভা করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব। এভাবে একটি বিভাগ চলতে পারে না।”
স্বপ্নযাত্রার শুরুতেই সেশনজটের স্থবিরতা
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের (৫৪ ব্যাচ) স্নাতক প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও ভর্তি কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে ক্লাস শুরুর আগেই দেখা দিয়েছে সেশনজটের শঙ্কা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর গত ৯ ফেব্রুয়ারি ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। বর্তমানে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি প্রক্রিয়ার কার্যক্রম চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরে ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রম শেষ করে ক্লাস শুরু হয়েছে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৩ জুলাই, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২ জুন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ জুলাই এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭ জুলাইয়ে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কত তারিখ থেকে ক্লাস শুরু হবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি প্রশাসন।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের (৫৪ ব্যাচের) ভর্তি সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী নুসরাত ঐশি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জাবিতে ক্লাস কবে শুরু হবে সেটার সম্ভাব্য তারিখও আমরা জানিনা। উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। প্রত্যাশা রাখবো জাবি কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ও হল অ্যালোটমেন্ট দিয়ে ক্লাস শুরু করবে।”
ক্লাস শুরুর বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, “কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ছিল ৩১ জুলাই ক্লাস শুরু করা হবে, সেটা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগস্টের শেষ সপ্তাহে শুরু করার একটা সম্ভাবনা আছে, যদিও এটা নিশ্চিত নয়।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যা বলছে
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের উপ-পরিচালক আওছাদ হোসেন বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী ৭৫ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে হয়। তবে বিভাগ থেকে ফলাফল না এলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কিছু করার থাকে না।”
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান বলেন, “প্রত্যেক বিভাগে পরীক্ষার জন্য একটি পরীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়। পরীক্ষা গ্রহণ থেকে ফলাফল প্রস্তুত সব দায়িত্ব ওই কমিটির। সমস্যা হলে বিভাগ জানালে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।”
ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “দেরির প্রধান কারণ কিছু পরীক্ষকের খাতা জমা দিতে বিলম্ব করা। এছাড়া অনেক সময় পরীক্ষা কমিটির সভাপতির নিষ্ক্রিয়তাও এর জন্য দায়ী।”
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমরা সেশনজট নিরসনের চেষ্টা করছি। নতুন ব্যাচগুলোর স্নাতক প্রথমবর্ষ থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত একাডেমিক ক্যালেন্ডার করা হয়েছে এবং সেটির অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে ক্লাসরুম ও শিক্ষক সংকট সেশনজটের অন্যতম প্রধান কারণ।”
প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস কবে নাগাদ শুরু হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ভর্তি পদ্ধতিতেই মূল সমস্যা। শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়ে আবার অন্যত্র চলে যাচ্ছে, যার ফলে সেখানে আবার অনেক সিট ফাঁকা হয়ে যায়। এতোদিন পার হয়ে গেল অথচ শিক্ষার্থীরা বাসায় বসে আছে, ক্লাস করতে পারছে না, এতে আমারই খুব খারাপ লাগছে।”