অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের ছায়া দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তাতে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের ওপরে শেখ হাসিনা সরকারের ছায়া দেখতে পাচ্ছি। সেই একই রকম স্বৈরতন্ত্র, একই রকম জনগণের ওপর বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন, একই রকম বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।”
সরকারের এই উল্টোযাত্রা চলতে থাকলে জনগণের দ্রোহযাত্রা অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শনিবার (২ আগস্ট) বিকেলে রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে “শিক্ষার্থী-শ্রমিক ও জনতার দ্রোহযাত্রা” শীর্ষক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিভিন্ন বামপন্থি রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, নারী, শ্রমিক ও ছাত্রসংগঠন এই আয়োজন করে।
সমাপনী বক্তব্যে আনু মুহাম্মদ বলেন, “চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, ইউনূস সরকারের প্রতি জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, একের পর এক সেই প্রত্যাশা ভঙ্গ করে এই সরকার এক বছর পার করেছে। তিনি বলেন, ‘যেভাবে সরকার পরিচালিত হচ্ছে, তাতে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের ওপরে শেখ হাসিনা সরকারের ছায়া দেখতে পাচ্ছি। সেই একই রকম স্বৈরতন্ত্র, একই রকম জনগণের ওপর বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন, একই রকম বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই সরকার যে অনেক কিছু করতে পারবে না, সেটা আমরা বুঝি। রাতারাতি পরিবর্তন তাদের কাছ থেকে আমরা প্রত্যাশাও করি না। কিন্তু আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম পরিবর্তনের সূচনা। যেটা হয়নি।”
মব সন্ত্রাস প্রসঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য আনু মুহাম্মদ বলেন, “এই সরকারের সময়ে মব সন্ত্রাস করে মানুষের বাড়িঘর ভাঙা হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়েছে, কিছু লোকের ভাড়াটে হিসেবে মব সন্ত্রাস তৈরি হয়েছে কাউকে বসানো বা ওঠানোর জন্য।”
তিনি বলেন, “এগুলোর জন্য আমরা সরকারকে দায়ী করতাম না, যদি দেখতাম যে সরকার এগুলো থামানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। আমরা বরং দেখতে পাচ্ছি সরকারের মধ্যে কেউ কেউ মব সন্ত্রাসকে যৌক্তিকতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।”
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তির কড়া সমালোচনা করেন আনু মুহাম্মদ।
ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষতিকর ও অসম চুক্তি প্রকাশ ও বাতিল না করে সরকার ও তাদের ঘনিষ্ঠদের ভারতের আধিপত্যবিরোধী কথাবার্তাকে “বাগাড়ম্বর” বলে আখ্যা দেন তিনি।
ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত পাল্টা শুল্ক কমাতে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে গোপনীয়তার চুক্তি করেছে, তারও সমালোচনা করে সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, “এই যে তৎপরতা চলছে, এটা তো গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশার বিপরীত যাত্রা। সরকার এই উল্টোযাত্রা যদি করতে থাকে, তাহলে জনগণের দ্রোহযাত্রা তো অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে।”
বাংলাদেশের মানুষের অতীতের সব লড়াইকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে সবার ওপরে রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন আনু মুহাম্মদ।
তিনি বলেন, “যারা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করে দেখাতে চায়, তারা গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিপক্ষ শক্তি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্পত্তি নয়। তাদের কবল থেকে মুক্তিযুদ্ধকে উদ্ধার করে জনগণের মালিকানায় নিয়ে আসতে হবে।”
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকেও নতুন ধরনের চাঁদাবাজ, দখলদার, সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী শক্তি অপব্যবহার শুরু করেছে অভিযোগ করেন আনু মুহাম্মদ।
তিনি বলেন, “তাদের কাছ থেকেও এই অভ্যুত্থানকে জনগণের মালিকানায় নিয়ে আসতে হবে। এই অভ্যুত্থানের কোনো নির্দিষ্ট বা একক মালিক নেই। গণ-অভ্যুত্থানের মালিক হচ্ছে জনগণ।”