জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এশীয় প্রতিবেশীদের বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে জাপান।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) এশীয় নেতাদের সঙ্গে এক অনলাইন বৈঠকের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি এই সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, “সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি এশীয় দেশের সঙ্গে জাপান ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। জাপানের এই নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো এশিয়ার দেশগুলোকে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সংগ্রহে সাহায্য করা। পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এবং তেলের মজুত বাড়ানোও এই রূপরেখার অংশ।”
হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। কারণ, এই নৌপথ দিয়ে পারাপার হওয়া তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯০%-ই এশিয়ার দেশগুলোতে পৌঁছায়।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আসিয়ানভুক্ত (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট) দেশগুলো এক বছরে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, জাপানের দেওয়া ১০ বিলিয়ন ডলারের এই সহায়তা প্রায় তার সমান।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা জাপানের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়া। এই প্রকল্পের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করা হবে।
এই অর্থায়নে অংশ নেবে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এবং নিপ্পন এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনস্যুরেন্স এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও (এডিবি)।
এই উদ্যোগের ফলে জাপানের অভ্যন্তরীণ তেল সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
গত মাসে জাপান তাদের মজুত থেকে রেকর্ড ৫০ দিনের সমপরিমাণ তেল বাজারে ছেড়েছে। মে মাসের শুরুতে আরও ২০ দিনের সমপরিমাণ তেল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।