ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার ব্রিটিশ জ্বালানি কোম্পানি শেলকে প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান ও রপ্তানির লাইসেন্স দিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দেওয়া লাইসেন্সের মাধ্যমে কোম্পানিটি দেশটির বিশাল গ্যাস সম্পদ উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।
ধারণা করা হয়, ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুদ রয়েছে এবং দেশটি প্রাকৃতিক গ্যাসেও সমৃদ্ধ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ওয়াশিংটনের চাপে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার আইনসভায় একটি সংস্কার আইন পাস করেন। এর মাধ্যমে খাতটি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ বলেন, “শেল কোম্পানি ২৩ বছর ধরে পরিত্যক্ত থাকা লোরান গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন করবে। এখানে সাতটি গ্যাসক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সঙ্গে সামুদ্রিক সীমান্ত বরাবর অবস্থিত।”
তিনি আরও বলেন, “এর ফলে ভেনেজুয়েলা গ্যাস উন্নয়ন এবং গ্যাস রপ্তানিকারক হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পারলো।”
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ জানায়, শেলের প্রতিনিধিরা বৃহস্পতিবার সকালে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মোনাগাস রাজ্যে অবস্থিত গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণ কেন্দ্র মুসকার অপারেশনাল কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন।
রদ্রিগেজ প্রশাসন ব্রিটেনের বিপি এবং স্পেনের রেপসলসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি শীর্ষ তেল কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
২০২৩ সালে ভেনেজুয়েলা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো শেল কোম্পানির সঙ্গে ড্রাগন নামের আরেকটি ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উৎপাদন ও রপ্তানির জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। এ গ্যাসক্ষেত্রে ১২০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস মজুদ রয়েছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞার সময় এটি অনিয়মিতভাবে চালু ছিল।