বুধবার (২৯ এপ্রিল) মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় তেলের দাম বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা নতুন করে দেখা দেওয়ায় বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উত্থান নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়ায় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দরপতন অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকেও সতর্ক নজর রাখছেন ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, ফেড সুদের হার নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিতে পারে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইরাকের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান হামলার পর তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, এসব গোষ্ঠী সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই ডজনের বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যাদের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার নির্দেশ দিয়েছিল।
এর আগে সেন্টকম আরও জানায়, তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, সেগুলো প্রতিহত করা হয়েছে।
বুধবার ইরান জানায়, তারা হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী জাহাজ থামিয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা পাল্টাপাল্টি রাতের হামলার পর তিন দিনের বিরতিতে এসব ঘটনা ঘটেছে।
এ সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে ইরান বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।
বুধবার প্রধান দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ৪%-এর বেশি বেড়েছে। চলতি মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে। জুলাইয়ের শুরুতে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭২ ডলার থেকে বেড়ে গত সপ্তাহে তা ১০০ ডলারের বেশি হয়েছিল। এরপর তিন দিনের বিরতির সময় দাম কিছুটা কমে এসেছিল।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার ভঙ্গুরতা তুলে ধরেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সপ্তাহে বলেছেন, “চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
এদিকে শেয়ারবাজারে আবারও প্রযুক্তি খাত বড় ধাক্কা। এআই খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে বিনিয়োগকারীরা প্রশ্ন তুলছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চ প্রত্যাশা পূরণ হবে কি না।
প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম দ্য ইনফরমেশনের এক প্রতিবেদন উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এতে বলা হয়, চীনের সাংহাই ইউলিয়াংশেং এমন একটি চিপ তৈরির প্রযুক্তির ব্যাপক উৎপাদন শুরু করেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে নেদারল্যান্ডসের এএসএমএল প্রতিষ্ঠানের আধিপত্যে ছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার আবারও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কসপি সূচক ৬%-এর বেশি কমে গেছে। চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম যথাক্রমে ১০% ও ৬% কমেছে।
এসকে হাইনিক্সের শেয়ার পতনের পেছনে ছিল এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে পরিচালন মুনাফা ও রাজস্ব প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ার খবর। যদিও কোম্পানির নিট মুনাফা বেড়েছে ১,২৪২%। এক মাস আগে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ৫০%-এর বেশি কমেছে।
প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্ট এনভিডিয়ার জন্য হাই-ব্যান্ডউইডথ মেমোরি চিপের বিশেষায়িত সরবরাহকারী। একইসঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি এই কোম্পানি।



