দেশের ১৬ টি হাব বন্ধ, চাপে দারাজ বাংলাদেশ

দেশের অন্যতম শীর্ষ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দারাজ বাংলাদেশ ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে সারা দেশে ১৬টি হাব স্থায়ীভাবে বন্ধ করেছে। রোববার (১৪ জুন) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কয়েকটি হাবের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হলেও দেশের অধিকাংশ জেলা শহরের বন্ধ হওয়া হাবগুলোর জন্য কোনো বিকল্প নির্ধারণ করা হয়নি। এতে স্থানীয় বিক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দারাজের সেলারদের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকার চকবাজার-২, পল্টন ও সাভার হাব বন্ধ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে যথাক্রমে চকবাজার-১, মালিবাগ এবং সাভারের নতুন ঠিকানার হাব ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের নিউমার্কেট হাবের পরিবর্তে আগ্রাবাদ হাব নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বগুড়া, রংপুর, কুষ্টিয়া, বরিশাল, রাজশাহী, টাঙ্গাইল, বাগেরহাট, ময়মনসিংহ, জামালপুর, ফরিদপুর, মৌলভীবাজার ও সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার হাব বন্ধ হলেও সেসব এলাকার জন্য কোনো বিকল্প হাবের তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে স্থানীয় পর্যায়ের বিক্রেতাদের ব্যবসা পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হাব কমানোর এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দারাজ ভবিষ্যতে স্থানীয় ক্ষুদ্র বিক্রেতার পরিবর্তে বড় বিক্রেতাদের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে পারে। পাশাপাশি বিদেশ, বিশেষ করে চীন থেকে সরাসরি পণ্য সরবরাহের কৌশলেও যেতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, মূল মালিক আলীবাবা গ্রুপ সাম্প্রতিক সময়ে ই-কমার্সের পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে দারাজের পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সূত্রের দাবি, প্রধান কার্যালয় থেকে দারাজ বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে আলীবাবা আর অতিরিক্ত বিনিয়োগ করবে না। প্রতিষ্ঠানটিকে নিজস্ব আয় দিয়েই পরিচালিত হতে হবে। আগামী জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের মধ্যে আয়-ব্যয় সমান বা ব্রেক-ইভেন অবস্থায় পৌঁছাতে না পারলে পরিচালন ব্যয়ে আর কোনো ভর্তুকি দেওয়া হবে না। বর্তমানে পরিচালন ব্যয়ের একটি অংশ ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে মেটানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

এ পরিস্থিতিতে ব্যয় কমাতে কর্মী ছাঁটাই, অফিস সংকোচন এবং অবকাঠামো পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে দারাজ। বর্তমানে প্রায় এক হাজার কর্মীর মধ্যে মাত্র ৩০০ জন স্থায়ী কর্মী, বাকিরা আউটসোর্সিং বা চুক্তিভিত্তিক। এ সংখ্যা আরও কমানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ইতোমধ্যে বনানীতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের চারটি ফ্লোরের মধ্যে দুটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মার্চেন্টদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বকেয়া থাকায় অনেক বিক্রেতা নিয়মিত পণ্য সরবরাহ করছেন না। বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তোষের কারণে সম্প্রতি ডেলিভারি ও লজিস্টিকস কর্মীদের একাংশ কর্মবিরতিও পালন করেন। এতে পণ্য সরবরাহ কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটে।

যদিও এ বিষয়ে দারাজ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আলীবাবার নতুন বিনিয়োগ কৌশলের অংশ হিসেবে দারাজে পুনর্গঠন (রিস্ট্রাকচারিং) চলছে। এরই অংশ হিসেবে ১৬টি হাব অন্য হাবের সঙ্গে একীভূত (মার্জ) করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সারা দেশে দারাজের প্রায় ১০০টি হাব রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি হাব বন্ধ হলেও বাকি হাবগুলো স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে প্রতিষ্ঠানের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, চলমান সংকট মোকাবিলায় ভবিষ্যতে সম্পদ লিজ দেওয়া, আউটসোর্সিং কিংবা অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনার দিকেও এগোতে পারে দারাজ বাংলাদেশ।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে দারাজের যাত্রা শুরু হলেও বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ২০১৮ সালে চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলীবাবা গ্রুপ দারাজ অধিগ্রহণ করে। বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে ব্যবসা পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।