স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৫০৬ কোটি ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার তেল, ডাল, চিনি ও গম কিনবে সরকার। এর মধ্যে ১৫৩ কোটি ৯৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার গম, ৭৭ কোটি ৯৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার সয়াবিন তেল, ১০৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার চিনি এবং ১৬৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকার মসুর ডাল কেনা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এসব পণ্য কেনার অনুমোদন দিয়েছে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মসুর ডাল কেনার দুটি প্রস্তাব এবং সয়াবিন ও চিনি কেনার দুটি পৃথক প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়। চারটি প্রস্তাবই অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
তিনি বলেন, “২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৬,০০০ মেট্রিক টন মসুর ডাল ৬২ কোটি ৯৪ লাখ টাকায় কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বরগুনার ‘রয় অ্যাগ্রো ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডের’ কাছ থেকে এ মসুর ডাল কেনা হবে। প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম পড়বে ১০৪ টাকা ৯০ পয়সা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ১০,০০০ মেট্রিক টন মসুর ডাল ১০৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকায় কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ‘ইজি জেনারেল ট্রেডিং’ থেকে ৬,০০০ টন এবং ‘নাবিল নাবা ফুড লিমিটেড’ থেকে ৪,০০০ টন মসুর ডাল কেনা হবে। এতে প্রতি কেজির দাম পড়বে ১০৪ টাকা ৪৪ পয়সা। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে এসব মসুর ডাল কেনা হবে।”
এছাড়াও টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ৮,০০০ মেট্রিক টন চিনি ১০৭ কোটি ৬০ লাখ টাকায় কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। “এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের” কাছ থেকে ১৩৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে এই চিনি কেনা হবে। টিসিবির জন্য এই চিনি কেনার প্রস্তাব নিয়ে আসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবে উন্মুক্ত পুনরায় দরপত্র পদ্ধতিতে ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ৭৭ কোটি ৯৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঢাকার “সোনারগাঁও সিডস ক্রাশিং মিলস লিমিটেড” থেকে এ সয়াবিন তেল কেনা হবে। এ সয়াবিন তেলও টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য কেনা হবে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রতিষ্ঠান “গ্রিন ফ্লাওয়ার ডিএমসিসির” কাছ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুত সুসংহত করতে এ গম আমদানি করা হবে। প্রতি মেট্রিক টন গমের মূল্য ধরা হয়েছে ২৭৯.৯৫ মার্কিন ডলার। ফলে এ গম আমদানিতে ব্যয় হবে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৫৩ কোটি ৯৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা। প্রতি কেজি গমের দাম পড়বে ৩০ টাকা ৭৯ পয়সা।