সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ প্রণোদনা বাড়লো, প্রজ্ঞাপন জারি

আগামী জুলাই মাস থেকে সরকারি চাকরিজীবী ১ম থেকে ৯ম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তারা ১০% হারে এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৫% বিশেষ প্রণোদনা পাবেন।

সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ প্রণোদনার বিদ্যমান হার ৫% থেকে বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

মঙ্গলবার (৩ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এই বিশেষ সুবিধা বৃদ্ধির পাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ১ম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তারা অতিরিক্ত ৫% এবং ১০ম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অতিরিক্ত ১০% হারে বিশেষ প্রণোদনা পাবেন।

এ বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের ফলে সরকারের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে।

এর আগে, সোমবার (২ জুন) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

এসময় তিনি বলেন, “২০১৫ সালের পর থেকে কোনো বেতন কাঠামো না হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব করছি।”

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে কর্মকর্তাদের মূল বেতন হিসেবে ব্যয় হবে ১৩ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতন বাবদ ব্যয় হবে ৩০ হাজার ১ কোটি টাকা। আর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতা বাবদ ব্যয় হবে ৪০ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বরাদ্দ করা হয়েছে মোট ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা।

জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৫০ হাজার সরকারি চাকরিজীবী অবসরে যাবেন। ফলে পেনশন গ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৮ লাখ ৫০ হাজার। এ কারণে পেনশন খাতে সরকারের ব্যয় বেশি বাড়লেও বিশেষ প্রণোদনা বাড়ানো সত্ত্বেও বেতন-ভাতায় বরাদ্দের পরিমাণ সে তুলনায় বাড়ছে না।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের ৫% বিশেষ সুবিধা পান। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটেও সাবেক অর্থমন্ত্রী মাহমুদ আলীও বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছিলেন। বাজেটের পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের নিয়মিত ৫% ইনক্রিমেন্টের সঙ্গে আরও ৫% বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেন।

২০২৩ সালের জুলাই থেকে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫% হারে বিশেষ প্রণোদনাও চালু করে তৎকালীন সরকার। এই বিশেষ প্রণোদনা এখনও অব্যাহত আছে। ২০১৫ সাল থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা প্রতি বছর ৫% হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেয়ে আসছেন।