চুয়েট শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলমান, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনের ১২তম দিনে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অচলাবস্থা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ২ টার দিকে নবনিযুক্ত উপাচার্যের বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক’ দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। 

এর আগে, গত শুক্রবার একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নবনিযুক্ত উপাচার্য বলেন, ‘‘২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের চারটি পরীক্ষা আন্দোলনের কারণে আটকে রয়েছে।’’ 

তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, এই বক্তব্য ক্যাম্পাসের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা জানান, ওই শিক্ষাবর্ষের প্রায় সব বিভাগের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। শুধু একটি বিভাগের পরীক্ষা এখনো শুরু হয়নি। 

এরপর দুপুরে শহীদ মিনার থেকে মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘তোমার ভিসি, আমার ভিসি-সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’ এবং ‘এক দফা, এক দাবি-সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। 

মিছিলে ‘চুয়েটের অচলাবস্থা কাটাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা’ লেখা ব্যানার দেখা যায়। এছাড়া ‘চুয়েট সচলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ’, ‘চুয়েট রিভোল্টস ফর সায়েম স্যার’ ও ‘পিএম, কনসিডার আওয়ার অ্যাপিল’ লেখা প্ল্যাকার্ডও ছিল।

শিক্ষার্থীরা চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসন, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল এবং স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

চুয়েট ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম বলেন, “আমরা আমাদের সায়েম স্যারকে আবার উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। প্রশাসনের নীরবতায় আমরা ক্ষুব্ধ। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। 

এদিকে, আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।