ক্লাস বর্জন ও সর্বাত্মক আন্দোলনের ৩৩ দিন পর অবশেষে শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তবে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান এবং পূর্বের উপাচার্যকে পুনর্বহালের এক দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন তারা।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এক খোলা চিঠিতে প্রথমে ক্লাসে ফেরার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এরপর দুপুর ১২টা থেকে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত চুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায়ও শিক্ষার্থীদের আহ্বানে সায় দিয়ে ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
খোলা চিঠিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থায় তাদের শিক্ষাজীবন ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে। শিক্ষা ও ভবিষ্যৎকে আর ক্ষতিগ্রস্ত হতে না দিতেই তারা একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ক্লাসে ফেরার অর্থ আন্দোলন থেকে সরে আসা নয়। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত এক দফা দাবি অনুযায়ী, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুনরায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী যুলক্বার নাইন মিহাদ জানান, দীর্ঘস্থায়ী সেশনজট ও অনিশ্চয়তা এড়াতে তারা ক্লাস সচল করার পাশাপাশি সংকটের একটি সম্মানজনক সমাধান চান। এদিকে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির জানান, শিক্ষক সমিতির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং স্ব স্ব বিভাগ দ্রুতই ক্লাস শুরুর তারিখ নির্ধারণ করবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন ও কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ এই অচলাবস্থায় চুয়েটের ৭টি বিভাগের ৩৪টি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়।
আন্দোলন চলাকালে গত ১২ অক্টোবর নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দপ্তরের তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করলে তাকে অবরুদ্ধ করেন আন্দোলনকারীরা। ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পর প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রশাসনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।



