২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। অবশেষে দীর্ঘ ৯ বছর পর কলকাতায় মুক্তি পেয়েছে দেব-শুভশ্রী অভিনীত “ধূমকেতু” সিনেমাটি। গত ১৪ আগস্ট মুক্তি পাওয়ার পর থেকে বক্স অফিসে দারুণ সফলতা পেয়েছে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের এই সিনেমা।
তবে এরই মধ্যে সিনেমাটি নিয়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। যার আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। পশ্চিমবঙ্গের মতো দেব এবং শুভশ্রীর ভক্তরা আছে বাংলাদেশেও।
সিনেমাটির প্রযোজক রানা সরকার ডয়চে ভেলেকে বলেন, "সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের বহু দর্শক সামাজিক মাধ্যমে আমাদের অনুরোধ করেন ছবিটিতে ওদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য।"
এরপর তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে ট্যাগ করে এক্স হ্যান্ডেলে জানান, তারা বাংলাদেশে ধূমকেতু রিলিজ করাতে আগ্রহী। তিনি লেখেন, "বাংলাদেশের সরকারকে অনুরোধ, আপনারা আমাদের অনুমতি দিন বাংলাদেশের অসংখ্য সিনেমাপ্রেমী মানুষের বাংলা সিনেমার প্রতি ভালোবাসাকে সম্মান জানিয়ে।"
এরপরেই গোল বাঁধে। রাজ্য বিজেপির এক্স হ্যান্ডেল থেকে রানার এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করা হয়। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ নিয়ে মাথাব্যাথা নেই, ধূমকেতু দিয়ে অর্থ উপার্জন করাই লক্ষ্য প্রযোজকের। সেখানে বলা হয়, "একদিকে ইউনূসের পদলেহন করছেন প্রযোজক রানা সরকার, অন্যদিকে পোস্টারে উজ্জ্বল টিএমসির দেব। (বাংলাদেশের) মাটিতে হিন্দু রক্তের দাগ দেখতে পান না তারা।"
বিজেপির এই মন্তব্যে স্বভাবতই ক্ষুব্ধ রানা। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, "আমার ওপর রাজনৈতিক আক্রমণ করার আগে ওরা আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করুক। তিস্তা, গঙ্গা থেকে জল দেওয়া বন্ধ করুক। তার পর আমাকে বলতে আসুক। তখন কথা হবে।" এরপর দেবের ভক্ত সংখ্যা মনে করিয়ে তিনি বলেন, "দেব একজন সুপারস্টার। তাকে নিয়ে উন্মাদনা থাকবেই। তাকে বা তার ছবিকে অপমান করাটা নিন্দনীয়।"
'দেশের নিয়ম মানতে হবেই'
দেব এবং শুভশ্রী জুটির উন্মাদনা ছাড়াও রুদ্রনীল ঘোষের অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়োচ্ছে। রুদ্রনীল আবার বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচিত। প্রশংসা পেয়ে খুশি হলেও, বাংলাদেশে মুক্তির ব্যাপারে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, "ধূমকেতুর প্রশংসায় আমি আপ্লুত। শুধু আমি কেন, এই ছবির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকেই চাইব, সারা পৃথিবীতে এই ছবিটি মুক্তি পাক। তবে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ছবি মুক্তি নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম আছে। সেটা মানতে হবে।"
বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমী মানুষদের আলাদা রাখতে চেয়ে রুদ্রনীল বলেন, "বাংলাদেশের মানুষদের আমাদের সিনেমা সংস্কৃতি নিয়ে বরাবরই আগ্রহী। তারা সামাজিক মাধ্যমে এই ছবি ওদেশেও দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু আবেগ দিয়ে তো দেশ চলে না। দুই দেশের ছবি মুক্তির কিছু নিয়ম আছে। আর এটাও ভুলে গেলে চলবে না, ওই দেশের একাংশের মানুষ ভারত সম্পর্কে কুমন্তব্য করেন। এদেশ আক্রমণের কথা বলেন। পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন। কলকাতা দখল করার কথা বলেন। যারা সিনেমা দেখতে চান তারা আলাদা। সিনেমা মুক্তি নিয়ে ভারত সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবেন তাই আমাদের মানতে হবে। দুই দেশ ভাগ হোক অনেকেই তা চাননি। কিন্তু এই কাঁটাতার তো আমরা অস্বীকার করতে পারি না।"