নার্সদের নিজে হাতে সাজানো উপহার দিলেন কবি হেলাল হাফিজ

বাংলা কবিতার জনপ্রিয় কবি হেলাল হাফিজ দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে ভক্তদের জন্য কিছুটা হলেও সুখবর যে, শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় হাসপাতাল ছেড়েছেন কবি হেলাল হাফিজ।

রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি হাসপাতাল ছেড়েছেন বলে জানিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন।

বাস্তব জীবনে নিঃসঙ্গ এই কবি হাসপাতাল থেকে ফিরেছেন তার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা হোটেল কক্ষে।

আর হাসপাতাল ছাড়ার আগে তার সেবা করা নার্সদের নিজের হাতে সাজানো একটি উপহার দিয়ে গেছেন কবি। 

আর এই উপহার হলো- কাঁচের কৌটা, যার ভেতরে প্লাস্টিকের মাছ, গাছ ও পাথর রয়েছে। কৌটাটির গায়ে নানান রঙের বিভিন্ন ধরনের আল্পনা করা হয়েছে। কবির শৈপ্লিক হাতের ছোঁয়ায় সাধারণ একটি কাঁচের কৌটা অসাধারণ এক শিল্পকর্মে পরিণত হয়েছে। এই উপহার পেয়ে নার্সরা অভিভূত। 

কবিকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া নার্সরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় তারা ঠিকমতো তাকে ওষুধ দিয়েছেন, যত্ন নিয়েছেন। তাদের সেবায় খুশি হয়ে কবি হাসপাতাল ছাড়ার সময় নিজের হাতে তৈরি একটি উপহারও তাদের দিয়ে গেছেন। হাসিমুখে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার একজন নারী পাঠক কবিকে হাসপাতালে নিয়ে এলেও তাকে সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করার মতো কেউ ছিল না বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

কবিকে হাসপাতালে দেখে ফেরার পর ফেসবুকে নিজের আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা শবনম ফেরদৌসী। তাতে উল্লেখ করা হয়, “নিউট্রন বোমা বোঝ, মানুষ বোঝ না’—এ কবিতার কবি হেলাল হাফিজ অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে। তিনি মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার’ এ ভুগছেন। আনুষঙ্গিক অসুস্থতা তো আছেই। তার সঙ্গ প্রয়োজন। হাসপাতালে সঙ্গে থাকার জন্য লোক প্রয়োজন। আশা করি তার ভক্ত ও সুহৃদরা সেই নিঃসঙ্গতা কিছুটা হলেও লাঘব করবেন।”

৭৪ বছর বয়সী কবি হেলাল হাফিজ শারীরিক অবস্থার একটু উন্নতি হওয়ায় হোটেলে ফিরে যাওয়ার কথা জানালেও নিজের একাকিত্বে বিষয়টি উল্লেখ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “হাসপাতালের কেবিনে থাকার ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করার জন্য একজন অ্যাটেন্ডেন্ট থাকতে হয়। তেমন কেউ না থাকায় সেখানে অসহ্য লাগছিল। যদিও সেখানকার চিকিৎসক, নার্সরা ভালো সেবাযত্ন করেছেন। তবে দেখাশোনার করার মতো কেউ ছিল না, একজন লোককে ভাড়া করে রাখা হয়েছিল। হাসপাতাল ছাড়ার এটাও একটা কারণ। কাকে অনুরোধ করবো? এটা সবার জন্যই বিরক্তিকর। তাই আমি নিজের ইচ্ছায় হোটেলে ফিরে এসেছি। এখানেও আমি একা আছি।”

চিকিৎসকরা ওষুধপত্র বুঝিয়ে দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি এখনও খুব অসুস্থ, ভালো হইনি ঠিকমতো। সম্প্রতি সিএমএইচে দেড় মাস চিকিৎসা নিয়ে হোটেলে ফেরার পর আবারও হঠাৎ করে সুগার ফেল করলো। পরে পরিচিতজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসলো। তার আগে পিজিতেও (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসা নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন, সেজন্য কৃতজ্ঞ আমি।”’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কবি হেলাল হাফিজের একজন পাঠক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিক নানা সমস্যায় ভোগা কবিকে দেখার কেউ নেই। তাই তার নিয়মিত চিকিৎসা, উপযুক্ত জায়গায় থাকার ব্যবস্থা এবং দেখভাল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও মনযোগী হলে ভালো হতো। তাহলে বাংলা সাহিত্যের এই প্রতিভাবান কবিকে জীবনের এসে একাকিত্বে ভুগতে হতো না।”