কিল: প্রতিশোধের আগুন থেকে মেজাজ হারিয়ে রক্তের খেলায় মেতে ওঠার গল্প

মার মার কাট কাট অবস্থা এখন যেন বলিউডের নতুন ট্রেন্ড। এবার সে তালিকায় যুক্ত হলো করন জোহর প্রযোজিত সিনেমা “কিল”। করন জোহর বেশিরভাগ সময় তার সিনেমাতে ভালোবাসার গল্পই তুলে ধরেন। তবে এবার একটু অন্য আঙ্গিকের সিনেমা উপহার দিলেন তিনি।

রাঘব জুয়েল ও লক্ষ্য অভিনীত এই রক্তাক্ত প্রতিশোধের গল্প দর্শকদের সামনে ফুটে উঠেছে “কিল” সিনেমাতে। নাচের রিয়ালিটি শোতে প্রথম দেখা যায় স্লো মোশন কিং খ্যাত এই রাঘব জুয়েলকে। তারপর সফলভাবে টেলিভিশনে সঞ্চালনা করেছেন। এবার নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েই তার সদ্ব্যবহার করেছেন তরুণ এই অভিনেতা।

নিখিল নাগেশ ভাট পরিচালিত এই গল্পে এনএসজি কমান্ডো অমৃতের চরিত্রে অভিনয় করেছেন লক্ষ্য। অমৃতের প্রেমিকা তুলিকার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তানিয়া মানিকতলা। বাবার (হর্ষ ছায়া) চাপে পড়ে তুলিকা বাগদান করতে বাধ্য হয়। এই খবর পেয়ে বন্ধু তথা সহকর্মী বীরেশকে (অভিষেক চৌহান) নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে আসে অমৃত। বাগদানপর্ব যার সঙ্গেই হোক, বিয়ে সে অমৃতকেই করবে এমন আশ্বাস দেন তুলিকা । এই আশ্বাস দিয়েই পরিবারের সঙ্গে ট্রেনে করে দিল্লি রওনা দেয় সে। প্রেমিকার পিছু পিছু ট্রেনে উঠে পড়ে অমৃত। তারপরই গল্প মোড় নেয় অন্যদিকে।

এই ট্রেনেই ডাকাতি করার পরিকল্পনা করেন ফানি (রাঘব জুয়েল) ও তার বাবা বেনীর (আশিস বিদ্যার্থী)। ফানির পুরো পরিবারই ডাকাত। খুন, জখম, রাহাজানি থেকে অপহরণ, সবকিছুই করতে পারে। আর ফানি যেমন নিষ্ঠুর, তেমন বদমেজাজী। বাবার নির্দেশে ট্রেনে উঠে পড়ে ফানি আর তার দলবল। তারপরই শুরু হয় নৃশংসতার এক নগ্ন খেলা। এই খেলায় জয়-পরাজয় যারই হোক, রক্তগঙ্গা অবধারিত।

অ্যাকশন সিনেমা দেখতে অনেকেই পছন্দ করেন। তবে দুর্বল চিত্তদের জন্য “কিল” সিনেমা নয়। তাই সেই হিসেব করেই সিনেমা হলে যাওয়া ভালো। পুরো অ্যাকশন ট্রেনের মধ্যেই হয়েছে। ফলে এক গতিশীলতা বজায় রয়েছে পুরো সিনেমায়। তাই অমনোযোগী হওয়ার সুযোগ একেবারেই নেই।

হিন্দি টেলিভিশন থেকেই উত্থান নায়ক লক্ষ্যর। এই অভিজ্ঞতার ছাপ তার অভিনয়ে রয়েছে। তবে বড়পর্দার নায়ক হতে এখনও তার খানিক সময় আর অধ্যাবসায় প্রয়োজন।

সিনেমায় তানিয়া মানিকতলার বিশেষ কিছু করার ছিল না। অভিনেত্রী কেবলমাত্র নিজের ভূমিকা পালন করেছেন। তবে এই সিনেমায় নজর যিনি কাড়লেন তিনি রাঘব জুয়েল।