ভোক্তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকার বনানীর স্টার কাবাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হোটেলটির ম্যানেজারসহ ১১ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে বনানী থানা পুলিশ। এরপর এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে স্টার কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (৭ অক্টোবর) স্টার কাবাবের ফেসবুক পেজে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে তারা দুঃখপ্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে রেস্টুরেন্টটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, রবিবার বিকেলে আমাদের বনানী স্টার কাবাবে একজন সম্মানিত কাস্টমারের (গ্রাহক) সঙ্গে একজন কর্মচারীর ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে উদ্ভূত অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত ও লজ্জিত। সেইসঙ্গে আমরা আমাদের এই সম্মানিত কাস্টমারের কাছে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তির আওতায় নিয়ে এসে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা আমাদের সম্মানিত কাস্টমারদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে ঐতিহ্যগতভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিবারণে আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। স্টার কাবাব সম্মানিত কাস্টমারদের সর্বাধিক মর্যাদায় মূল্যায়ন করে।
ফের এমন ঘটনা না ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সব কর্মচারীর পক্ষ থেকে সম্মানিত এই কাস্টমারের কাছে পুনরায় আমরা ক্ষমা প্রার্থনা করছি। সবার ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সহযোগিতায় সমৃদ্ধি অর্জন, স্টার কাবাবের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
প্রসঙ্গত, রবিবার দুপুরে স্টার কাবাবের বনানী শাখায় সালেহ মোহাম্মদ রশীদ অলক নামের এক ভোক্তাকে মারধর করা হয়।
জানা গেছে, রবিবার দুপুরে অলোক তার এক বন্ধুর সামনে পরিবেশন করা খাবারে গন্ধ পাওয়ার অভিযোগ করলে স্টার কাবাবের ম্যানেজার প্রত্যুত্তরে বলেন, “জীবনে টিক্কা খাননি আপনি। এটা এমনই হয়।” অলক বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে আশপাশের আরও কয়েকজন গ্রাহক একই অভিযোগ করেন।
বিষয়টি নিয়ে প্রথম ওয়েটারদের সঙ্গে এবং পরে ম্যানেজারের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কলবেল চেপে সব স্টাফকে জড়ো করেন ম্যানেজার। এ সময় সালেহ অলককে স্টার কাবাবের ১৪ থেকে ১৫ জন মিলে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়।