চিকিৎসক থেকে এলএলবি, এবার নাটকে সাবরিনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত মুখ ডা. সাবরিনা শারমিন হোসেন। করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত জেকেজি হেলথ কেয়ারের এই চেয়ারম্যান বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় দেখা যায় তাকে। লিখেছেন উপন্যাসও। এসবরে মধ্যেই গতবছর জানান দেন, আইন বিষয়ে পড়ালেখা শুরু করেছেন তিনি। এবার জানা গেল, নাটকে অভিনয় করছেন সাবরিনা। আর সেখানে জনপ্রিয় অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবুর বিপরীতে দেখা যাবে তাকে।

“অভিমানে তুমি” শিরোনামের একটি নাটকে দেখা যাবে সাবরিনাকে। নাটকটি পরিচালনা করেছেন এসকে শুভ। ইতোমধ্যে রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন লোকেশনে নাটকটির দৃশ্য ধারণের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সাবরিনা সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, “অভিনয় ভীষণ চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। পরিচালক যেভাবে আমাকে চরিত্র বুঝিয়ে দিয়েছে, যেভাবে অভিনয় করতে বলেছেন সেভাবেই করার শতভাগ চেষ্টা করেছি।”

তিনি বলেন, “আমি যেকোনো কাজই ভীষণ সিরিয়াসলি করি। অভিনয়ের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে। সহশিল্পী শ্রদ্ধেয় ফজলুর রহমান বাবু ভাই ভীষণ সহযোগিতা করেছেন।”

তবে অভিনয়ে এবারই প্রথম নয়। ১৫ বছর আগে জনপ্রিয় মডেল, অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌয়ের সঙ্গে একটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন সাবরিনা। 

এ প্রসঙ্গে সাবরিনা বলেন, “যেহেতু অভিনয়ের প্রতি অনেক আগে থেকেই একটা ভালোলাগা ছিল, তাই অনেক দেরিতে হলেও আবারও চ্যালেঞ্জিংয়ের জায়গাটা নতুন করে বুঝার চেষ্টা করছি।”

উল্লেখ্য, তিন বছরেরও বেশি সময় কারাগারে থাকার পর ২০২৩ সালের ১৬ জুন জামিনে মুক্তি পান তিনি। মুক্তির পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠেন সাবরিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের রিলস ফিচারের সহায়তায় দিতে শুরু করেন বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা।

এর আগে, ২০২০ সালের ২৩ জুন করোনাভাইরাসের ভুয়া সনদ দেওয়া, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে সাবরিনার স্বামী ডা. আরিফুলসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ।

অভিযোগ ওঠে, জেকেজির কর্ণধার স্বামী-স্ত্রী মিলে করোনাভাইরাসের টেস্টের ভুয়া সনদ বিক্রি করেছেন। ওই বছরের ১২ জুলাই সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তেজগাঁও বিভাগীয় উপ-পুলিশ (ডিসি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এরপর সাবরিনাকেও প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, জেকেজির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন সাবরিনা।

২০২০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক লিয়াকত আলী। একই বছরের ২০ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আদালত।

করোনাভাইরাসের ভুয়া রিপোর্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথ কেয়ারের কর্ণধার আরিফুল চৌধুরীর স্ত্রী ডা. সাবরিনা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ছিলেন। মামলার পর ওই প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

২০২১ সালে সাবরিনা শারমিন এবং প্রতিষ্ঠানটির সিইও আরিফুল চৌধুরীসহ আটজনকে তিনটি পৃথক অভিযোগে ১১ বছর করে কারাদণ্ড দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন।

সাবরিনা-আরিফুল ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আবু সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ূন কবির হিমু, তানজিলা পাটোয়ারী, বিপ্লব দাস, শফিকুল ইসলাম রোমিও ও জেবুন্নেসা।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে আপিল করেন আসামিরা। সেখানে জামিন না পেয়ে পরবর্তীকালে হাইকোর্টে আবেদন জানান ডা. সাবরিনা।

আবেদনের শুনানি নিয়ে গতবছরের ৫ জুন বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ তার জামিনের আদেশ দেন।