৪৫ পেরিয়ে আজ ৪৬-এ পা রাখলেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর। ১৪ বছর বয়সে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখার পর টানা দেড় যুগ সমসাময়িক নায়িকাদের মধ্যে সেরা আসনটি নিজের করে নিয়েছিলেন তিনি। তবে এক যুগের বেশি সময় ধরে সিনেমা জগতে অনিয়মিত তিনি। বিয়ের পর থেকে পরিবার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস করছেন এই নায়িকা।
২০১১ সালের শেষের দিকে ব্যবসায়ী অনীক মাহমুদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। এর পর থেকেই ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রে অনিয়মিত হয়ে পড়েন শাবনূর। বিয়ের পর ভাই ও বোনদের মতো শাবনূরও স্বামী অনীককে নিয়ে সিডনিতে বসবাস শুরু করেন। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর শাবনূর-অনীক দম্পতির ছেলে আইজান নিহানের জন্ম হয়। তবে দাম্পত্য জীবনের ৯ বছর পর ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি অনীক মাহমুদের সঙ্গে শাবনূর বিবাহবিচ্ছেদের খবর জানান। বর্তমানে সন্তানকে নিয়ে স্থায়ীভাবে সিডনিতেই বসবাস করছেন বাংলা চলচ্চিত্রের একসময়কার এই সুপারহিট নায়িকা।
অস্ট্রেলিয়ায় কেমন সময় পার করছেন এ প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, “আমার তো ভাই-বোন-মাসহ সবাই এখন অস্ট্রেলিয়াতেই থাকেন। এক যুগের বেশি সময় এখানে থাকার কারণে অনেক বন্ধুবান্ধবও জুটেছে। তাদের সঙ্গে আড্ডা হয়, ঘুরতে যাই। আমি নিজেও ড্রাইভ করতে পছন্দ করি। বন্ধুরা ব্যস্ত থাকলে আমি ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে বের হই। এছাড়াও আমার ছেলের স্কুল আছে, তার দেখভাল সবই আমাকে করতে হয়। ক্রিকেট ওর প্রিয় খেলা। সময় পেলে আমরা মা–ছেলেসহ অন্যরা মিলে মাঠে গিয়ে খেলাধুলা দেখি। আমার কাছে তো মনে হয়, সময় আরও কম হয়। সে হিসেবে বলতে পারি, পরিবার, সাংসারিক নানান কাজকর্ম এবং বন্ধুবান্ধব মিলে সময়টা দারুণ কাটে।”
নতুন করে সংসার শুরুর বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের কোনো চিন্তা আপাতত নেই। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়া যেকোনো নারীর সুখকর অভিজ্ঞতা নয়। তাই স্বামীকে ডিভোর্স দিতে হয়েছে আমার। অনেকে মনে করেন, একবার কারও প্রতারণার শিকার হলে আর কোনো পুরুষ মানুষকে বিশ্বাস বা বিয়ে করা যায় না। এটি একটি ভুল ধারণা। ভালো–মন্দ পৃথিবীর সবকিছুতেই আছে। তাই বলে ভালো মানুষ যে আর পাওয়া যাবে না, তা কিন্তু নয়। তবে বিয়ে নিয়ে আমার আপাতত আগ্রহ না থাকার পেছনে আমার সন্তান।”