সাইফ-কারিনার সেই বাড়িটি কেমন? ভেতরে কী কী আছে?

সাইফ আলী খানের ওপর দুষ্কৃতীর হামলার তদন্তে নেমে মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ জানতে পেরেছে, অভিনেতার বাড়িতে দুষ্কৃতী প্রবেশ করেছিল পাশের একটি বহুতলের দেওয়াল বেয়ে। খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের।

মুম্বইয়ের বান্দ্রা পশ্চিমের সেন্ট টেরেসা রোডের উপর ‘‘সৎগুরু শরণ’’ নামের একটি বহুতলের বাসিন্দা অভিনেতারা। তার পাশেই রয়েছে অনেকগুলো বহুতল ভবন। কিন্তু কড়া নিরাপত্তাবলয় থাকা সত্ত্বেও নবাব সাইফের সেই বাড়িতে কীভাবে দুষ্কৃতী প্রবেশ করল, তা এখনও অজানা। মুম্বাই পুলিশ এখনও সেই সূত্র খুঁজতেই ব্যস্ত। পরিবার ব্যস্ত দুষ্কৃতীর ছুরিতে জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সইফকে নিয়ে। কিন্তু কেমন সেই বাড়ি যেখানে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল?

জানা গেছে, বছর চারেক আগে সাইফ এবং কারিনা কাপুর খান সংসার পাতেন ‘‘সৎগুরু শরণ’’ নামের সেই বহুতল ভবনে। ১২ তলা ভবনের চারটি তলা নিয়ে তারা তৈরি করেছেন ‘‘পাতৌদি হাউস’’। সেই নাম এবং পাতৌদির নবাবদের প্রতীক আঁটা একটি পিতলের প্লেট শোভা পায় চারতলা বাড়িতে ঢোকার মুখে বড় কাঠের মজবুত দরজার মাঝ বরাবর। এর বাইরে থাকেন নিরাপত্তারক্ষীরা এবং আধুনিক নজরদারির প্রযুক্তিও।

পরিবারের সঙ্গে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সাইফ আলী খান/সংগৃহীত

এই বাড়িতে সাইফ-কারিনা দপ্ততি বসবাস শুরু করেছে প্রায় ৪ বছর। এর আগে কয়েক পাশের ফরচুন টাওয়ারে তারা থেকেছেন প্রায় ১১ বছর। ২০১৬ সালে ওই বাড়িতেই জন্ম হয় তৈমুরের। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাইফ-কারিনার দ্বিতীয় সন্তান জাহাঙ্গীর হওয়ার পরে পরিবার বড় হয়। তখনই সাইফ-কারিনা পুরো পরিবার চলে আসেন এই বাড়িতে।

‘‘সৎগুরু শরণে’’ সাইফ-কারিনার চারতলা বাড়ির প্রতিটি তলের আয়তন ৩০০০ বর্গফুট। সেখানে রয়েছে ৩টি করে শোয়ার ঘর, একটি বড় বসার ঘর, একটি রান্নাঘর এবং বারান্দা। তার সঙ্গে রয়েছে সাইফদের নিজস্ব গ্রন্থাগার, নিজস্ব সুইমিং পুল, তৈমুর এবং জাহাঙ্গীরের আলাদা ঘর, এমনকি, আলাদা খেলার ঘরও। এছাড়াও বিলাসবহুল সামগ্রীতে মোড়া সাইফের বসার ঘরটিও দেখার মতো। বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করে আনা শিল্পকর্ম এবং ছবি দিয়ে সাজানো ঘরটি।

ঘরটিতে রয়েছে চমকপ্রদ সাদা-কালো মার্বেল পাথরের মেঝে। ব্রিটিশ স্থাপত্যের কারুকাজ। কাঠের আসবাব এবং অন্দরসজ্জাতেও ব্রিটিশ সংস্কৃতির ছোঁয়া। ঝাড়বাতি থেকে শুরু করে বাতিদান, দেওয়ালে নামী শিল্পীর হাতের আঁকা।

নজরকাড়া সেই বসার ঘরের একটি দরজা খুলছে খোলামেলা ছাদে। ছাদের পাঁচিলের ওপর খানিকটা বেতের নকশার ব্যারিকেড। তার ওপরে অনেকটা খোলা জায়গা। বাইরে থেকে কেউ চাইলে এই পথে প্রবেশ করতে পারে। তবে এমন খোলামেলা ছাদ বা বারান্দা একটি নয়, বহুতল ভবনের প্রতি তলেই রয়েছে। প্রতিটি বারান্দাই নানা রকম আসবাবে সাজানো। কোথাও সিরামিকের টব, তো কোথাও ছোট্ট চেয়ার-টেবিলের সেট। কোথাও সোফাসেটে বসার ব্যবস্থা।

তেমন এক খোলা বারান্দার দরজা ঠেলেই ঢুকে পড়া যায় সাইফ-কারিনার শোয়ার ঘরে। সেই ঘরের সাজসজ্জাও কিছু কম নয়। শৌখিন ল্যাম্পশেড থেকে শুরু করে ছোট-বড় আসবাব, ফুলদানি এবং দম্পতির ছবি দিয়ে সাজানো দেওয়াল।

তৈমুর এবং জাহাঙ্গীরের খেলার ঘরটির মেঝে কাঠের। দেওয়ালে হালকা রং। সেখানে গান শোনা, সিনেমা দেখার ব্যবস্থা যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে খেলাধুলোর বড় জায়গাও।

কারিনা কাপুর খানের সাজঘর

কারিনার সাজগোজের ঘরটিও দেখার মতো। সেখানে পোশাক, ব্যাগ, জুতো আর রয়েছে চোখ ধাঁধানো সব আসবাপত্র।

দুটি ফ্ল্যাটের মাঝের করিডরগুলোও সাজিয়েছেন কারিনা। সবুজ গাছপালায় মোড়া সেই করিডরের দুপাশে খোলা জানলা। আর সবুজ গাছগাছালির ঘনঘটা। সাজানো রয়েছে বসার জায়গা এবং সাইফ-কারিনার ভ্রমণের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি দিয়ে।

খোলা ছাদে রয়েছে সুইমিং পুল। ১২ তলার ছাদের উপরে সেই সুইমিং পুল থেকে দৃশ্যমান বান্দ্রার সেই বিস্তৃত প্রাকৃতিক দৃশ্য।