‘ঘটনার সময় নুসরাত ফারিয়া কানাডায় ছিলেন’

গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়েছে অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়াকে। এদিকে অভিনেত্রীকে আদালতে তোলার পর তার পক্ষের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে দাবি করা হয়, ৯ জুলাই থেকে নুসরাত বিদেশে ছিলেন। দেশে ফেরেন ১৪ অগাস্ট। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে ছিলেন।

সোমবার (১৯ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে সিনিয়র সুপার কাওয়ালীন নাহার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “দুপুর আড়াইটার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে নুসরাত ফারিয়াকে কারাগারে আনা হয়েছে।”

এর আগে আজ সোমবার ভাটারা থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় অভিনেত্রীকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গতকাল রবিবার নুসরাত ফারিয়াকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় করা একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

ভাটারা থানার পুলিশের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর অভিনেত্রীকে আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তোলা হয়। তার পক্ষের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে দাবি করা হয়, ৯ জুলাই থেকে নুসরাত বিদেশে ছিলেন। দেশে ফেরেন ১৪ অগাস্ট। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে ছিলেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী এই জামিনের বিরোধিতা করেন। জামিনের বিষয়ে ২২ মে শুনানির দিন ধার্য করে নুসরাতকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারাজানা হক।

মামলা সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে গত ১৯ জুলাই ভাটারা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন এনামুল হক নামের এক ব্যক্তি। ৩ মে ভুক্তভোগী এনামুল বাদী হয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলা করেন। সেই মামলায় নুসরাত ফারিয়াকে আসামি দেখানো হয়েছে। মামলাটি ৩ মে এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে নুসরাত ফারিয়াকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। শুনানির শুরুতে নুসরাতের আইনজীবী আদালতকে বলেন, ‘‘অভিনেত্রী কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নুসরাত ফারিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের পক্ষেও লেখালেখি করেছিলেন। যে মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে, সে মামলার ঘটনার তারিখ গত বছরের ১৯ জুলাই। বাস্তবতা হচ্ছে, নুসরাত ফারিয়া তখন কানাডায় ছিলেন। পেশাগত কাজ শেষে গত বছরের ১৪ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন।” পরে আইনজীবী মোহাম্মদ ইফতেখার হাসান নুসরাত ফারিয়ার পাসপোর্ট ও ভিসার কাগজপত্র আদালতের কাছে জমা দেন।