ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খানের সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা “বরবাদ” দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। তবে গত ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি পাইরেসির কারণে কমপক্ষে ৪ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রযোজক শাহরিন আক্তার।
পাইরেসির অভিযোগে “বরবাদ” সিনেমার প্রযোজক শাহরিন আক্তার গত ৫ মে কপিরাইট আইনে তিনি রাজধানীর গুলশান থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলা দায়েরের ২০ দিনেও পাইরেসির সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
“বরবাদ” সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে গত ৩১ মার্চ। এটি শাহরিন আক্তারের প্রযোজিত প্রথম সিনেমা। তার তাবি, সিনেমাটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি টাকা। এটি ১২৩টি সিনেমা হলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। মুক্তির পর দিনই পাইরেসির কবলে পড়ে “বরবাদ”।
এ বিষয়ে শাহরিন আক্তার সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, “বিগ বাজেটের ছবি ‘বরবাদ’ চলচ্চিত্রটি দর্শক, চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। আশা করেছিলাম, এটি ব্যাপকভাবে ব্যবসাসফল হবে। পাইরেসির কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।”
সিনেমা হলে প্রদর্শনের পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রথম আলোকে জানান শাহরিন আক্তার। তার দাবি, বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের সঙ্গেও তিনি কথা বলেছিলেন। তারাও নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু পাইরেসির বিষয়টি নজরে আসার পর তাদের তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে, কপিরাইট আইনে করা মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডে গত বছরের ২৫ মার্চ “বরবাদ” নিবন্ধিত হয়। গত ৩০ মার্চ তিনি জানতে পারেন, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা সিনেমার এইচডি ভিডিওর কিছু অংশ পাইরেসি করেছেন। আর ৩১ মার্চ সিনেমা মুক্তির পর থেকে পাইরেসির মাধ্যমে পুরো “বরবাদ” সিনেমাটি অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন অজ্ঞাতনামা আসামিরা। সিনেমাটি যে ১৪টি ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলোর তালিকাও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাইরেসি হওয়ার কারণে প্রযোজক হিসেবে কেবল তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হননি, চিত্রনায়ক শাকিব খান, হলমালিক, চলচ্চিত্রটির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি প্রযোজকের। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর দাবি জানান তিনি।
বিষয়টি নিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মারুফ আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, “অনেক চেষ্টা করেও বরবাদ” সিনেমার পাইরেসির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারিনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোন কোন প্রোফাইল থেকে সিনেমার অংশ প্রকাশ করা হয়েছিল, সেটি চিহ্নিত করা হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. তারেক মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, “বরবাদ চলচ্চিত্রটি পাইরেসির শিকার হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি গুলশান থানা–পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করেছে। তবে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে ‘বরবাদ’ চলচ্চিত্রটির প্রযোজকের করা মামলাটি ডিএমপির সাইবার বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”