সন্তান মুখে মুখে তর্ক করে? তার স্বভাবে পরিবর্তন আনুন কৌশলে

অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায়, ছোটরা অনেক সময়েই বড়দের মুখে মুখে তর্ক করে। কড়া ভাষায় জবাব দেয়। যা নিয়ে বাবা-মা দুশ্চিন্তায় থাকেন। কারণ, এ ধরনের অভ্যাস ভবিষ্যতে তার ক্ষতি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোটদের মনের কথা ব্যক্ত করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু লাগাতার বাবা-মা বা বড়দের মুখের ওপর কথা বলার প্রবণতা ইতিবাচক নয়।

সঠিক সময়ে সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ না করলে ভবিষ্যতে তার এই স্বভাব নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। তবে শিশুর ওপর জোরপ্রয়োগ করে এ ধরনের স্বভাব পরিবর্তেনের চেষ্টা একদমই অনুচিত। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

তবে কিছু কৌশল অবলম্বন করলে সন্তানের এ ধরনের অভ্যাস পরিবর্তনে সহায়ক হতে পারে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে-

মাথা ঠান্ডা রাখুন

সন্তান মুখে মুখে তর্ক করলে তা বাবা-মায়েদের মনের মধ্যে রাগের উদ্রেক ঘটায়। অনেকেই এই পরিস্থিতিতে ছোটদের বকাবকি করেন। কখনও গায়ে হাত তোলেন। কিন্তু তার ফলে সন্তান আরও প্রতিবাদী হয়ে উঠতে পারে। ঠান্ডা মাথায় তাকে বোঝালে সমস্যার সমাধান হতে পারে।

নিয়মের বৃত্ত

সন্তানের কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়, সেটা অভিভাবককেই তাকে বোঝাতে হবে। তাই স্পষ্ট ভাবে বড়দের মুখের উপর কথা বলার নেতিবাচক দিকগুলো তার সামনে তুলে ধরতে হবে। বড়দের সম্মান করা, নীচু স্বরে কথা বলার মতো বিভিন্ন নিয়ম তাকে শিখিয়ে দিতে হবে। নিয়মগুলো বাড়ির সদস্যদের সামনে ছোটদের বোঝাতে হবে। তাহলে বিষয়টির প্রতি তারা গুরুত্ব দেবে।

ছোটদের প্রতি গুরুত্ব

বাড়িতে ছোটরা বড়দের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। কারণ অনেক সময়েই তাদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করতে তারা জেদ করে। অনেক সময়ে কোনো অবসাদ থেকে সন্তান জোর গলায় কথা বলতে পারে। তাই আগে স্পষ্ট ভাবে তার কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত। ছোটদের মনের কথা বুঝতে পারলে, তারাও আশ্বস্ত হবে। শান্ত হবে।

কৃতজ্ঞতাবোধ

সন্তান যদি বড়দের কথা শোনে, তা হলে তাকে ধন্যবাদ জানানো উচিত। সে কথা শুনলে তাকে কোনো উপহার দেওয়া যেতে পারে। তার মাধ্যমে বিষয়টির প্রতি ভবিষ্যতে আরও বেশি গুরুত্ব দেবে ছোটরা।

নিয়মানুবর্তিতা

একবার সন্তানকে বুঝিয়ে ফল না-ও পাওয়া যেতে পারে। তাই তার আচরণ সম্পর্কে লাগাতার সন্তানকে বোঝানো উচিত। বড়দের মুখে মুখে সে যাতে তর্ক না করে সে দিকে লক্ষ রাখা উচিত। যদি তার পরেও সমস্যা না মেটে, তাহলে একজন মনোবিদের সঙ্গে সন্তানের জন্য পরামর্শ করা যেতে পারে।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা