Wednesday, July 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এই গরমে ডিম খেলে কী শরীরের ক্ষতি হবে?

গ্রীষ্মকালে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দিতে বলছেন চিকিৎসকরা

আপডেট : ৩০ মে ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর ডিম আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ। তবে গরম পড়লেই অনেকে মনে করেন, এ সময়ে ডিম খাওয়া কমিয়ে দেওয়া উচিত।

তবে পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ মানুষের জন্য গরমে ডিম খাওয়া নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও রান্না করা হলে ডিম গরমেও নিরাপদ ও উপকারী খাবার হিসেবেই বিবেচিত হয়।

ডিম খেলে শরীর গরম হয়?

দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, ডিম শরীরের তাপ বাড়িয়ে দেয়। এর পেছনে মূল কারণ ডিমের উচ্চ প্রোটিনের উপস্থিতি। প্রোটিন হজম করতে শরীরকে তুলনামূলক বেশি কাজ করতে হয়, ফলে সামান্য তাপ উৎপন্ন হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া শরীরের মূল তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় না। ফলে হিটস্ট্রোক বা গরমজনিত অসুস্থতার কারণও হয় না। অনেক সময় গরমের দিনে অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পর যে অস্বস্তি বা পেটে ভারীভাব অনুভূত হয়, সেটিকেই ভুল করে ডিম খাওয়ার কারণে হচ্ছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

গরমকালেও ডিম কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ডিমে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, আয়রন, কোলিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি। এই পুষ্টি উপাদানগুলো পেশির স্বাস্থ্য বজায় রাখতে, শরীরে শক্তি জোগাতে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের সঙ্গে ডিম থাকলে তৃপ্তিবোধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যা অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া নিয়মিত ও পরিমিত ডিম খাওয়ার সঙ্গে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

গরমে আসল চিন্তা খাদ্য নিরাপত্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে ডিম খাওয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ডিম কিভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে সেটি। উচ্চ তাপমাত্রায় ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। ফলে ফ্রিজে না রাখা বা দীর্ঘক্ষণ বাইরে ফেলে রাখা ডিম থেকে খাদ্যবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ডিম কেনার সময় খোসা ফাটা কিনা তা খেয়াল করা জরুরি। একইসঙ্গে রান্না করা ডিমের তরকারি দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় না রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়।

ডিমের কোন তরকারি গরমে বেশি উপযোগী?

গরমের দিনে ভারী ও তেল-মশলা যুক্ত খাবার অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। তাই অতিরিক্ত তেলে ভাজা বা ঝাল-মশলাদার ডিমের তরকারি খাওয়ার বদলে তুলনামূলক হালকা রান্না বেছে নেওয়া ভালো। সেদ্ধ ডিম, পোচ, কম তেলে তৈরি অমলেট বা সবজি মিশিয়ে রান্না করা ডিমের তরকারি সাধারণত গরমের দিনে বেশি স্বস্তিদায়ক বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। এতে পুষ্টিগুণও বজায় থাকে, আবার হজমেও তুলনামূলক কম চাপ পড়ে।

সবার জন্য কি একই নিয়ম প্রযোজ্য?

যদিও অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য ডিম নিরাপদ। তবু কিডনির কিছু রোগ, বিশেষ বিপাকজনিত সমস্যা বা নির্দিষ্ট খাদ্যনিয়ন্ত্রণ থাকলে ডিম খাওয়ার পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি নির্দিষ্ট খাবারকে দোষারোপ করার চেয়ে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখুন

গরমে ডিম খেলে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় বা অসুস্থতা বাড়ে, এমন ধারণার পক্ষে প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং ডিম সাশ্রয়ী, সহজলভ্য এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি খাবার। তাই গ্রীষ্মকালেও ডিম খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। শুধু সঠিকভাবে সংরক্ষণ, পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ, হালকা রান্না পদ্ধতি এবং পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস বজায় রাখলেই গরমেও নিশ্চিন্তে ডিম খাওয়া যেতে পারে।

   

About

Popular Links

x