শিশুকে অবাধ্য হলে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা মানেই কি চিৎকার বা মারধর? বিশেষজ্ঞরা বলছেন - একেবারেই নয়; বরং ভালোবাসা, ধৈর্য ও ইতিবাচক মনোভাব দিয়েই শিশুকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা সম্ভব। এতে সম্পর্কও সুন্দর থাকে, আর ছোট্ট মনটাও নিরাপত্তা ও ভালোবাসার মধ্যে বেড়ে ওঠে।
প্যারেন্টিং বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি অভিভাবকরা কিছু সহজ কৌশল মেনে চলেন, তাহলে তিরস্কার ছাড়াই শিশুকে দায়িত্বশীল ও শৃঙ্খলাপরায়ণ করে তোলা সম্ভব। আসুন জেনে নেই সেই ৫টি টিপস-
ইতিবাচক শক্তিবৃদ্ধি দিন
শিশু যখন কোনো ভালো কাজ করে - যেমন সময়মতো হোমওয়ার্ক শেষ করা, কাউকে সাহায্য করা, বা সত্য বলা - তখন তার প্রশংসা করুন। “তুমি খুব ভালো করেছ” বা “আমি তোমার জন্য গর্বিত” এর মতো ছোট্ট বাক্যও তার মনে বড় প্রভাব ফেলে। এতে শিশুরা বুঝে যায় কোন আচরণগুলো প্রশংসিত হয় এবং সেগুলো পুনরাবৃত্তি করতে চায়।
বোঝার সুযোগ দিন, জোর করবেন না
যদি বাইরে ঠান্ডা থাকে আর শিশু সোয়েটার পরতে না চায়, তবে জোরাজুরি না করে বলুন, “বাইরে কিন্তু ঠান্ডা, তুমি নিজেই ভাবো সোয়েটার পরবে কিনা।” এতে শিশু নিজের সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নিতে শেখে এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা পায়।
পুনঃনির্দেশনা ব্যবহার করুন
শিশু দুষ্টুমি করছে বা রাগ করছে? তিরস্কারের বদলে মনোযোগ ঘুরিয়ে দিন অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে - যেমন আঁকা, ব্লক খেলা, বা গল্প শোনা। এতে সে ধীরে ধীরে নেতিবাচক আচরণের বদলে ইতিবাচক বিকল্প বেছে নিতে শেখে।
"টাইম আউট" নয়, "টাইম ইন"
শিশু খারাপ আচরণ করলে তাকে একা ফেলে রাখবেন না। বরং পাশে বসে তার সাথে শান্তভাবে কথা বলুন, আচরণের কারণ জানুন। এই সময় কাটানো “টাইম ইন” শিশুদের মানসিক নিরাপত্তা দেয় এবং তারা বুঝতে পারে যে অভিভাবক তার পাশে আছে, শত্রু নয়।
স্পষ্ট ও ধারাবাহিক সীমানা নির্ধারণ করুন
নিয়ম বানিয়ে তা ভাঙবেন না। একদিন চকলেট না দিয়ে পরের দিন দিলে শিশু বিভ্রান্ত হয়। তাই যেকোনো নিয়মে ধারাবাহিকতা রাখুন। নিয়ম পরিষ্কার থাকলে শিশুরা শিখে যায় সেগুলো মেনে চলতে।
শিশুরা স্বভাবতই কৌতূহলী ও শেখার আগ্রহী। ভালোবাসা, ধৈর্য, এবং সঠিক কৌশল ব্যবহার করলে তারা নিজেরাই সঠিক পথ বেছে নেয় - তাও কোনো ভয় বা চাপ ছাড়াই। এভাবেই শাসন হতে পারে কোমল, কিন্তু কার্যকর।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস