শুধু হাঁটলেই ওজন কমবে না, হাঁটার পর করতে হবে আরও ৫ জরুরি কাজ

ওজন কমাতে হাঁটা অন্যতম সহজ ও কার্যকর ব্যায়াম। খোলা হাওয়ায় হাঁটলে মন ভালো হয়, পায়ের পেশি মজবুত হয়, হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ থাকে এবং সার্বিকভাবে শরীর থাকে চাঙা। তবে শুধু হাঁটলেই ওজন কমবে, এই ধারণা ভুল। কখন, কীভাবে হাঁটছেন এবং হাঁটার পরে কী করছেন, তা ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

হাঁটার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ

কেউ "পাওয়ার ওয়াকিং" পছন্দ করেন, যেখানে গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫ কিমি থাকে, ফলে ঘাম ঝরে ও ক্যালোরি দ্রুত পোড়ে। আবার "ইন্টারভ্যাল ওয়াকিং"-এ দ্রুত ও ধীর গতির মিশ্রণ হয়- ২ মিনিট দ্রুত হাঁটার পর ১ মিনিট ধীরে, তারপর আবার দ্রুত হাঁটা। কেউ ওজন নিয়েও হাঁটেন। যেভাবেই হাঁটুন না কেন, এর পরের ৫টি অভ্যাস মেনে চললে ওজন কমানোর গতি বাড়বে।

. ডিটক্স পানীয় পান করুন

হাঁটার পরপরই প্রচুর ঠান্ডা পানি না খেয়ে ডিটক্স পানীয় খাওয়া ভালো। এক গ্লাস পানিতে আধ চা চামচ পিঙ্ক সল্ট ও একটি লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এটি শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করে, ক্যালোরির ভারসাম্য রাখে এবং মেদ ঝরার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে। বাজারের এনার্জি ড্রিঙ্ক বা প্রোটিন শেকে চিনি ও রাসায়নিক বেশি থাকে, তাই ঘরোয়া পানীয়ই সেরা।

. হাই-প্রোটিন প্রাতরাশ

সকালে খালি পেটে হাঁটতে পারেন, তবে ফিরে এসে ৩০ মিনিট পর প্রোটিনসমৃদ্ধ নাশতা করুন। প্রোটিনের পরিমাণ অন্তত ৩০-৪০ গ্রাম হওয়া উচিত। মুগ ডালের চিল্লা, ডিম সেদ্ধ, চিকেন সেদ্ধ, ছাতু, ছানা, পনির দোসা বা বাদাম রাখতে পারেন।

. হাঁটার পরপর খাবেন না

হাঁটা শেষ করার পর ৫ মিনিটের মধ্যে কিছু খেলে শরীরে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি জমতে পারে। কলা, পাউরুটি বা ড্রাই ফ্রুটও তখন বেশি খাওয়া উচিত নয়। বরং ৩০-৪০ মিনিট অপেক্ষা করুন।

. স্ট্রেচিং করুন

হাঁটার পরে শরীরের পেশি শক্ত হয়ে যায়, তাই হালকা স্ট্রেচিং করলে পেশি নমনীয় হয় এবং ক্যালোরি খরচের হারও বাড়ে।

. ঠান্ডা বা গরম খাবার এড়িয়ে চলুন

হাঁটার সময় রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। হেঁটে এসেই বরফ ঠান্ডা জল, গরম চা বা কফি খেলে শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যা অসুস্থতার কারণ হতে পারে।

সঠিকভাবে হাঁটার পাশাপাশি এই ৫টি নিয়ম মেনে চললে শুধু ফিটনেসই নয়, ওজন কমানোর লক্ষ্যও দ্রুত পূরণ হবে।