দেশে স্থূলত্বের সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে- শিশু থেকে বয়স্ক, কেউই এর বাইরে নন। এই সমস্যা শুধু চেহারায় পরিবর্তন আনে না, ডায়াবিটিস এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ভারতের পুষ্টিবিদ ঋতু সমাদ্দারের মতে, একজন সুস্থ মানুষের দিনে ২০-২৫ মিলিলিটার তেল যথেষ্ট, অর্থাৎ মাসে ৭৫০-৯০০ মিলিলিটার।
অথচ বেশিরভাগ মানুষ মাসে এক লিটারেরও বেশি তেল খেয়ে ফেলেন। ডায়াবিটিস বা হৃদ্রোগীর ক্ষেত্রে মাসে ৫০০ মিলিলিটারের বেশি তেল খাওয়া উচিত নয়। বিশেষত বাইরের ভাজা বা প্যাকেটজাত খাবারের তেল এড়িয়ে চলা জরুরি, কারণ এতে থাকে ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট।
তাহলে কি তেল কমিয়ে দিলে স্বাদ হারাবে প্রিয় রান্না? মোটেই না! কয়েকটি কৌশল মেনে চললেই অল্প তেলে রান্না হবে সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর-
কম তেলে সুস্বাদু রান্নার ৬ কৌশল
- চামচে মেপে তেল ব্যবহার করুন
বোতল থেকে সরাসরি তেল না ঢেলে চামচে মেপে নিন। এতে অতিরিক্ত তেল পড়ার সম্ভাবনা কমবে। ডুবো তেলে ভাজার বদলে ঢেকে রান্না করুন। - বেকিংয়ের সুবিধা নিন
মাছ বা মুরগি বেক করে নিলে অনেক তেল বাঁচে। সামান্য তেল বা মাখন দিয়েই সুস্বাদু বেকড পদ তৈরি করা যায়। - ভাপে রান্না
সবজি, মাছ, ডিম, পনির বা মুরগি- ভাপিয়ে রান্না করলে তেল কম লাগে, পুষ্টিগুণও বজায় থাকে। - আগেভাগে মশলা মাখানো
রান্নার আগে কিছুক্ষণ মাছ, মাংস বা পনিরে মশলা মাখিয়ে রাখুন। দই ব্যবহার করলে কম তেলে স্বাদ বাড়ে। - ননস্টিক কড়াই ব্যবহার করুন
এতে তেল কম লাগে, খাবার লেগে যায় না, আর রান্না দ্রুত হয়। চাইলে এয়ার ফ্রায়ারও ব্যবহার করতে পারেন। - বাইরের ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন
হোটেল বা ফাস্টফুডের তেলে ট্রান্সফ্যাট বেশি থাকে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
তেল কমিয়ে রান্না করার অভ্যাস শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণেই সাহায্য করবে না, হৃদ্যন্ত্র ও রক্তে সুগার লেভেলও ঠিক রাখবে। আজ থেকেই মেপে তেল ব্যবহার শুরু করুন- স্বাস্থ্যও থাকবে ঠিক, স্বাদও অটুট।