বাড়িতে খুঁজলে এখনও হয়তো মেলে পুরোনো দিনের একটি স্যুটকেস। শক্ত কভার, তালাচাবির ব্যবস্থা আর ভেতরে ভাঁজ না-ভাঙা জামাকাপড়- এক সময় ভ্রমণের অপরিহার্য সঙ্গী ছিল এই বাক্স। অথচ ভেবেছেন কী, এর নাম কেন স্যুটকেস? কিংবা আজকের কেতাদুরস্ত ট্রলি ব্যাগের উৎপত্তি কোথা থেকে?
স্যুটকেস নামের পেছনের কাহিনি
১৯ শতকের শেষদিকে, ভ্রমণে আনুষ্ঠানিক পোশাক নেওয়ার ছিল নিয়ম। সেই পোশাক কুঁচকানো বা নষ্ট হয়ে যাওয়া চলত না। তাই বাজারে এলো ট্রাঙ্কের মতো দেখতে হালকা বাক্স, যেখানে স্যুট ভরে রাখলেও ভাঁজ নষ্ট হওয়ার ভয় ছিল না। আর সেখান থেকেই নাম- স্যুটকেস। অর্থাৎ, স্যুট বহনের কেস বা বাক্স।
উপাদানের পরিবর্তন
প্রথম দিকে চামড়া ও ধাতব দিয়ে তৈরি হতো স্যুটকেস। পরে, ১৯৩০-এর পর প্লাস্টিক ও কার্ডবোর্ড ব্যবহার শুরু হয়, ফলে স্যুটকেস হয় হালকা ও সহজে বহনযোগ্য।
চাকা লাগার বিপ্লব
১৯৭০-এর দশকে প্রথম চাকা যুক্ত হয় স্যুটকেসে। ভ্রমণের ধরনে তখন আসে বড় পরিবর্তন- বহন করা সহজ হয়ে যায়। এরপর রুকস্যাক আর ট্রলি ব্যাগ দখল করে নেয় বাজার।
স্মার্ট ব্যাগের যুগ
আজকের ট্রলি ব্যাগ শুধু পোশাক নয়, ল্যাপটপ, ক্যামেরা, গ্যাজেট রাখার উপযোগী করে তৈরি হচ্ছে। চার্জিং পোর্ট, জিপিএস ট্র্যাকার এমনকি কফির কাপ রাখার জায়গা- সবমিলিয়ে এটি এখন “স্মার্ট ব্যাগ”।
এক সময়কার স্যুটকেস আর আজকের ট্রলি ব্যাগ- দুটিই সময়ের সঙ্গে ভ্রমণের অনুসঙ্গ হিসেবে চাহিদা মেটাচ্ছে। তবে একটি বিষয় একই রয়ে গেছে, যাত্রাপথের সবচেয়ে ভরসাযোগ্য সঙ্গী, সেই স্যুটকেসই।