জাপানে এক লাখ মানুষ শতবর্ষী। গতবছর জাপানের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রীতিমতো ঘটা করে জানিয়েছিল এ তথ্য।
যেখানে পৃথিবীর অনেক দেশে গড় আয়ু ৭০-এর নিচে, সেখানে জাপানে প্রতি বছরই বাড়ছে শতবর্ষীদের সংখ্যা, তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড। কীভাবে জাপানিরা এত দীর্ঘায়ু হয়েও নিজেদের ফিটনেস ধরে রাখেন?
বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলছে, জাপানিদের খাবারই সুস্থ সবলভাবে বেঁচে থাকার অন্যতম কারণ। তাদের খাদ্যতালিকায় প্রচুর তাজা শাকসবজি, ফলমূল, মাছ।
এমনকি মুখরোচক খাবারও খুবই কম পরিমাণে খান তারা! ফলে হৃদরোগ, বা এরকম কঠিন কোনো অসুখেও পড়তে হয় না খুব একটা। তাদের খাবারের মূল উপাদান মাছ, সাগরের শৈবাল, শাকসবজি আর হালকা স্যুপ। এই খাবারে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়।
বিবিসির ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শরীরচর্চাও জাপানিদের দীর্ঘাযুর অন্যতম গোপন সূত্র। প্রতিদিন সকালে রেডিও তাইসো’ নামে মাত্র তিন মিনিটের ব্যায়াম করেন জাপানিরা। ১৯২৮ সাল প্রায় ১০০ বছর ধরে এই ব্যায়াম করে আসছেন তারা। প্রতিদিন সকালের শুরুটাই হয় এই ব্যায়াম দিয়ে। ভোরবেলায় পার্কে বা ছোট দলে সবাই একসাথে ব্যায়াম করেন।
গাড়ির বদলে হাঁটতে বেশি পছন্দ করেন জাপানিরা। গণপরিবহন ব্যবহারও বেশি করেন।
ফলে তারা শুধু শারীরিকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও সক্রিয় থাকেন অনেক বেশি! অর্থাৎ বয়স ১০০ মানেই যে শয্যাশায়ী, তা কিন্তু নয়, রীতিমতো জীবনটাকে উপভোগ করেন তারা!
বিবিসি বলছে, ১৯৬৩ সালে জাপান সরকার যখন প্রথম শতবর্ষীদের সংখ্যা গোনা শুরু করে, মাত্র ১৫৩ জন থাকলেও, ১৯৮১ সালে এই সংখ্যা পৌঁছায় এক হাজারে। ৯৮ সালে ১০ হাজারে পৌঁছে যায়। এখন তো এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে ৮৮% নারী বলেও জানিয়েছে বিবিসি।
বয়স্করা যে বোঝা নন, সম্পদ, তা বোঝাতে প্রতি বছর প্রবীণ দিবসে দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত শুভেচ্ছাপত্র আর রূপার কাপ দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে।