যেভাবে ফ্যাটি লিভার থেকে মিলবে মুক্তি

বর্তমানে বিশ্বের বিপুল সংখ্যক মানুষ মেটাবলিক ডিসফাংশন-এসোসিয়েটেড স্টিয়াটটিক লিভার ডিজিজ বা ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় ভুগছেন। স্থূলতা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের কারণে নীরবে বাড়ছে এই রোগের ঝুঁকি। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে এটি লিভারের মারাত্মক ক্ষতির কারণও হতে পারে। 

তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। গবেষকদের দাবি, অতি পরিচিত ভিটামিন বি-৩ বা নিয়াসিন ভবিষ্যতে ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার উলসান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র গবেষকরা যৌথভাবে এই গবেষণা পরিচালনা করেন। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে, “মাইক্রোআরএনএ-৯৩ বা এমআইআর-৯৩ নামের একটি ক্ষুদ্র আরএনএ অণু লিভারে চর্বি জমার পেছনে বড় ভূমিকা রাখে। যখন এই অণুর মাত্রা বেড়ে যায়, তখন তা শরীরের চর্বি পোড়ানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত ফ্যাট ও ফ্রুক্টোজযুক্ত খাবার এমআরআই-৯৩ এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে ‘এসআইআরটি১’ নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনের কার্যকারিতা কমে যায়। এই জিন সাধারণত শরীরে শক্তি উৎপাদন ও চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু এর কার্যকারিতা কমে গেলে লিভারে ধীরে ধীরে চর্বি জমতে শুরু করে এবং তৈরি হয় ফ্যাটি লিভার।

এই অবস্থায় গবেষকরা প্রায় ১৫০টি এফডিএ অনুমোদিত ওষুধ পরীক্ষা করে দেখেন, কোনটি এমআইআর৯৩ কমাতে সবচেয়ে কার্যকর। সেখানেই সবচেয়ে ভালো ফল দেখায় নিয়াসিন। ইঁদুরের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, নিয়াসিন প্রয়োগের ফলে লিভারের জমে থাকা চর্বি কমেছে এবং বিপাকক্রিয়া উন্নত হয়েছে।

তবে গবেষকরা এখনই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন বি-৩ খেতে নিষেধ করছেন। কারণ উচ্চমাত্রার নিয়াসিনের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে, যেমন ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, লিভারের ওপর চাপ তৈরি হওয়া কিংবা রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া।

বর্তমানে কানাডার ইউনিভার্সিতে দ্য শেরব্রুক–এ এই বিষয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। মানুষের শরীরে এই ভিটামিন কতটা কার্যকর, তা নিশ্চিত হতে আরও সময় লাগবে। তবে গবেষণা সফল হলে ভবিষ্যতে ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পেতে এখনও সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, চিনি ও তেলযুক্ত খাবার কম খাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুম লিভার সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।