স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর আম বাংলাদেশের মানুষের পছন্দের শীর্ষে। তবে আম খাওয়ার চমৎকার এই মৌসুমে অনেকেই, বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং যাঁরা ওজন কমাতে চান, তারা আম খাওয়ার পর একধরনের অপরাধবোধে ভোগেন। অনেকেরই ধারণা, আম খেলে রাতারাতি ওজন ও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞান কী বলে? আসলে কতটুকু আম খাওয়া নিরাপদ?
আবার আম ও সেদ্ধ ভাত উভয়েরই গ্লাইসিমিক ইনডেক্স বা খাবার কত দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায় তার রেটিং কাছাকাছি। আমের গ্লাইসিমিক ইনডেক্স ৬৫ থেকে ৭৫ এবং ভাতের ৭০-এর কাছাকাছি। তবে ভাতে পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান না থাকলেও আমে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, লৌহ, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। আমে থাকা ৪ শতাংশ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, যা কলে ছাঁটা ঝকঝকে চালের ভাতে থাকে না। এছাড়া আমের ভিটামিন সি ত্বকের সুরক্ষা দেয় এবং পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সকালের সাধারণ নাশতায় যেমন দুটি রুটি, একটি ডিম ও সবজি খেলে প্রায় ২৫০ কিলোক্যালরি শরীরে প্রবেশ করে। আপনি চাইলে এই নাস্তার পরিবর্তে খোসা ও আঁটি ছাড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম আম খেতে পারেন, যা দুটি বড় বা তিনটি মাঝারি আমের সমান। একইভাবে দুপুরের প্রধান খাবারের পরিবর্তে ক্যালরি হিসাব করে আম খাওয়া সম্ভব।
তবে আম খাওয়ার সময় এর সাথে অন্য কোনো শর্করা জাতীয় খাবার যেমন আম-মুড়ি, আম-রুটি বা আম-ভাত খাওয়া যাবে না। মধ্যসকাল বা বিকেলের নাশতা হিসেবে অল্প পরিমাণে আম খাওয়া যেতে পারে, তবে সন্ধ্যার পর কখনো আম খাওয়া উচিত নয়। এছাড়া আম কখনো জুস বা রস করে খাওয়া ঠিক নয়। খোসা ছাড়িয়ে সরাসরি ভালো করে চিবিয়ে খেলে আঁশ শরীরে প্রবেশ করে, যা রক্তে সুগার ধীরে ধীরে ছড়ায়। আম খাওয়ার পর কিছুটা শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করে নেওয়া ভালো।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের রক্তের শর্করা বা সুগার যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে কোনোভাবেই আম খাওয়া যাবে না। সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকলেই কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে পরিমিত আম খাওয়া যাবে। অন্যদিকে আমে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। কিডনি রোগীদের পটাশিয়াম গ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায়, তাঁরা আম খাওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেবেন।



