নেত্রকোনার মদনে জাল দলিল নিয়ে চায়ের স্টলে মন্তব্য করার জেরে পৌর বিএনপির প্রচার সম্পাদক বনার মিয়াকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দলিল লেখক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রহিছ মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বনার মিয়ার ছেলে রুজেল মিয়া।
আহত বনার মিয়া বর্তমানে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগসূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে সাবরেজিস্ট্রার অফিস-সংলগ্ন একটি চায়ের স্টলে বসে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচিত জাল দলিল জালিয়াতি নিয়ে কথা বলছিলেন বনার মিয়া। এমন সময় দলিল লেখক রহিছ মিয়া তার লোকজন নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে রহিছ মিয়া ও তার সঙ্গীরা বনার মিয়ার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান।
বনার মিয়ার বড় ছেলে অভিযোগ করে বলেন, “রহিছ মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক হঠাৎ চায়ের স্টলে বাবার ওপর হামলা চালিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি অপরাধীর গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করছি।“
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলিল লেখক রহিছ মিয়া মোবাইল ফোনে দাবি করেন, বনার মিয়ার কথাবার্তা ভালো নয় এবং তিনি বিভিন্ন সময় তাকে ও অন্যদের নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে বলে স্বীকার করলেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো গুরুতর কিছু ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি, শুধু মুখে নখের আঁচড় লাগার কথা জানান। জাল দলিলের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি অফিসসংক্রান্ত বিষয়।“
পৌর বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান চন্দন ঘটনাটিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।“
মদন থানার ওসি মো. সালাহ উদ্দিন করিম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“
প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুন একটি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে নতুন দলিল সম্পাদনের চেষ্টাকালে তা সাবরেজিস্ট্রারের কাছে জব্দ হয়। এর প্রেক্ষিতে ২৮ জুন রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় সাবরেজিস্ট্রার অফিস, যার জবাবও তিনি দিয়েছেন। তবে নোটিশে তাকে আপাতত সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



