বয়স বাড়া জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম। তবে বয়সের ছাপ কত দ্রুত শরীরে ফুটে উঠবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের ওপর। অনেকেই বয়সের ছাপ লুকাতে দামি প্রসাধনী ব্যবহার করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাহ্যিক পরিচর্যা নয়, ভেতর থেকে শরীরকে পুষ্টি জোগানোই দীর্ঘদিন ত্বক ও শরীরকে তারুণ্যদীপ্ত রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ (ইনফ্লামেশন) বেড়ে গেলে কোলাজেন ও ইলাস্টিন দ্রুত ক্ষয় হতে শুরু করে। ফলে ত্বকে বলিরেখা, শুষ্কতা ও বয়সের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বিসমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি।
ব্রকলি, লাল ক্যাপসিকাম, পালংশাক, মিষ্টিআলু, অ্যাভোকাডো, পেঁপে, বাদাম ও ডালিমের মতো খাবার শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এসব খাবারে থাকা ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, বিটা-ক্যারোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে, কোষের ক্ষয় কমায় এবং নতুন কোষ গঠনে সহায়তা করে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে ত্বক দীর্ঘদিন উজ্জ্বল ও সতেজ থাকে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত চিনি, ভাজাপোড়া খাবার, ডালডা, ট্রান্সফ্যাট, প্রক্রিয়াজাত মাংস, কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক, অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল শরীরে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল তৈরি করে। এসব খাবার কোলাজেন নষ্ট করে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমিয়ে দেয়। ফলে বলিরেখা, ত্বক ঝুলে পড়া এবং বয়সের ছাপ দ্রুত দেখা দেয়।
এ ছাড়া অতিরিক্ত ঝাল খাবার, উচ্চ তাপমাত্রায় গ্রিল বা পোড়ানো মাংস এবং অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্ন অয়েল বা সানফ্লাওয়ার অয়েলের পরিবর্তে অলিভ অয়েলের মতো স্বাস্থ্যকর তেল ব্যবহার করলে ত্বক ভালো থাকে এবং শরীরে প্রদাহ কমে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারুণ্য ধরে রাখার অর্থ প্রিয় সব খাবার একেবারে বাদ দেওয়া নয়। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া এবং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বেশি করে শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সঠিক খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুমও দীর্ঘদিন সুস্থ ও তারুণ্যময় থাকতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।