প্রথমবার বিমান ভ্রমণ অনেকের কাছেই রোমাঞ্চকর, আবার একইসঙ্গে কিছুটা উদ্বেগেরও হতে পারে। টিকিট কাটা থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি জানা থাকলে যেকোনো সমস্যা এড়ানো সম্ভব। প্রথমবার যারা আকাশপথে যাত্রা করছেন, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু গাইডলাইন নিচে তুলে ধরা হলো:
টিকিট ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখা
যাত্রার প্রথম ধাপই হলো টিকিট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে নেওয়া।
পাসপোর্ট ও ভিসা: আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ৬ মাস থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা নিশ্চিত করতে হবে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্ট সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।
টিকিটের কপি: স্মার্টফোনে টিকিটের সফট কপি (ই-টিকেট) রাখার পাশাপাশি একটি প্রিন্ট কপি সাথে রাখা নিরাপদ।
লাগেজ গোছানোর নিয়ম ও নিষেধাজ্ঞা
এয়ারলাইন্স ভেদে লাগেজের ওজনের একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকে। টিকিট কাটার সময়ই দেখে নিন আপনি কত কেজি মালামাল বহন করতে পারবেন। অনেক সময় পাওয়ার ব্যাংক, লিথিয়াম ব্যাটারিযুক্ত যন্ত্র, তরল পদার্থ নিয়ে যাত্রীরা বিভ্রান্তিতে পড়েন। বিমানবন্দরে গিয়ে এসব কারণে ব্যাগ খুলে জিনিসপত্র সরানোর প্রয়োজনও হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের নিয়ম দেখে নেওয়া ভালো। এতে নিরাপত্তা তল্লাশি ও চেক-ইনের সময় ঝামেলা এড়ানো সহজ হয়। এছাড়া কোনো ধরনের ধারালো বস্তু (ছুরি, কাঁচি), দিয়াশলাই বা লাইটার হ্যান্ড লাগেজে একদমই নেওয়া যাবে না। পাওয়ার ব্যাংক ও ল্যাপটপ অবশ্যই হ্যান্ড লাগেজে রাখতে হবে।
সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছানো
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সারতে বেশ কিছুটা সময় লাগে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এর ক্ষেত্রে যাত্রার অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানো উচিত এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে অন্তত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আগে পৌঁছানো জরুরি। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর চেক-ইন, নিরাপত্তা তল্লাশি ও গেট খুঁজে বের করার জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়। তাই শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া না করাই ভালো।
বিমানবন্দরের ভেতরের আনুষ্ঠানিকতা
নিরাপত্তা তল্লাশি: বিমানবন্দরে প্রবেশের সময়ই প্রথম সিকিউরিটি চেকের মুখোমুখি হতে হবে। এখানে আপনার লাগেজ ও টিকিট স্ক্যান করা হবে।
চেক-ইন ও বোর্ডিং পাস সংগ্রহ: নির্দিষ্ট এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে গিয়ে টিকিট দেখিয়ে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করতে হবে। এখানেই আপনার ভারী লাগেজ জমা নিয়ে নেওয়া হবে এবং তার বিপরীতে একটি ট্যাগ দেওয়া হবে।
ইমিগ্রেশন (আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য): বোর্ডিং পাস পাওয়ার পর ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যেতে হবে। সেখানে কর্মকর্তা আপনার পাসপোর্ট, ভিসা ও ভ্রমণ সংক্রান্ত কিছু সাধারণ প্রশ্ন করতে পারেন।
ফাইনাল সিকিউরিটি ও বোর্ডিং গেট: ইমিগ্রেশন শেষ করে বোর্ডিং গেটের দিকে যাওয়ার আগে আরেকবার বডি স্ক্রিনিং ও হ্যান্ড লাগেজ স্ক্যান করা হবে। এরপর বোর্ডিং পাসে উল্লেখ থাকা নির্দিষ্ট গেটের সামনে গিয়ে বিমানের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
বিমানে ওঠার পর কিছু বিষয়
বোর্ডিং শুরু হলেই দৌড়ানোর প্রয়োজন নেই। যাত্রীদের ধাপে ধাপে ফ্লাইটে ওঠানো হয়। আপনার গ্রুপ বা সারির ডাক আসলে স্বাভাবিকভাবেই লাইনে দাঁড়াতে পারেন। এছাড়া বিমানে ওঠার পর কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে-
আসন খুঁজে নেওয়া: বিমানে ঢুকে আপনার বোর্ডিং পাসে লেখা নম্বর অনুযায়ী আসনটি খুঁজে নিন। ছোট ব্যাগ সামনের সিটের নিচে রাখা যাবে। বড় কেবিন ব্যাগ ওভারহেড বিনে রাখতে হয়। ব্যাগ তুলতে সমস্যা হলে কেবিন ক্রু বা অন্য কোনো যাত্রীর সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না।
নিরাপত্তা নির্দেশনা: কেবিন ক্রুরা নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মাবলী দেখাবেন, তা মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করুন। সিটবেল্ট সবসময় বেঁধে রাখুন। উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় এটি বাধ্যতামূলক।
টার্বুলেন্স স্বাভাবিক বিষয়: প্রথমবার ভ্রমণকারীদের অনেকের কাছেই টার্বুলেন্স ভীতিকর মনে হতে পারে। এতে উড়োজাহাজ কিছুটা কাঁপতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক এবং পাইলট ও কেবিন ক্রুরা এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষিত থাকেন। টার্বুলেন্সের সময় শান্ত থাকা এবং সিটবেল্ট বেঁধে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
গন্তব্যে পৌঁছানোর পর
বিমান ল্যান্ড করার পর তাড়াহুড়ো না করে শান্তভাবে নামুন। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট হলে প্রথমে ইমিগ্রেশন কাউন্টার পার হতে হবে। এরপর ব্যাগেজ ক্লেইম জোনে গিয়ে ডিসপ্লে বোর্ডে আপনার ফ্লাইটের নম্বর দেখে নির্দিষ্ট বেল্ট থেকে আপনার চেক-ইন লাগেজ সংগ্রহ করুন। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য পরিষ্কার নির্দেশনা দেওয়া থাকে। কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হলে বিমানবন্দর কর্মীদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
আগে থেকে এই ধারণাগুলো থাকলে আপনার প্রথম ভ্রমণের অভিজ্ঞতা স্বস্তিদায়ক হতে পারে।