মিষ্টি খেতে ভালোবাসেন, কিন্তু চিনি ও অতিরিক্ত ক্যালোরির কারণে অনেক সময় ইচ্ছা হলেও খাওয়া হয়ে ওঠে না। বিশেষ করে যারা খাবারে চিনি কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য মিষ্টি যেন বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ। অন্যদিকে ডায়াবিটিস ধরা পড়লেই অনেকেই ভয় পেয়ে যায়। আবার যার ডায়াবিটিস হয়নি, কিন্তু রক্তে শর্করার মাত্রা বিপদসীমায়, তাকে শুরু থেকেই নিয়ম মানতে হবে। ডায়াবিটিসের মতোই প্রি-ডায়াবেটিক পর্বটিও যথেষ্টই উদ্বেগের। এই পর্ব থেকেই খাওয়াদাওয়ায় রাশ টানতে হয়।
তবে বাঙালির মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ কাটানো সহজ নয়। বিশেষ করে দুপুর বা রাতের খাওয়ার পরে মিষ্টিমুখ না করলে ঠিক তৃপ্তি হয় না। তা হলে উপায়? চিনি ব্যবহার না করেও ঘরেই তৈরি করা যায় মজার কিছু মিষ্টি। ফল, দুধ, বাদাম ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি এসব খাবার স্বাদে মিষ্টি হওয়ার পাশাপাশি তুলনামূলক হালকাও হতে পারে।
চিনি ছাড়াই মিষ্টি তৈরির তিন উপায় জেনে নিন -
বাদাম ও কিশমিশের এনার্জি বল
এই মিষ্টি বানানোর জন্য লাগবে এক কাপের মতো আখরোট, এক কাপ কাঠবাদাম, ২ চামচ কিশমিশ, ১ চামচ তিল ও সামান্য ঘি। প্রথমে কাঠবাদামগুলি শুকনো খোলায় হালকা ভেজে নিন। এ বার ভাজা বাদামগুলি অর্ধেক করে ভেঙে নিয়ে তাতে আখরোট গুঁড়িয়ে মিশিয়ে দিন। কিশমিশ মিশিয়ে মিক্সিতে পেস্ট করে নিন। আঠালো মিশ্রণ তৈরি হবে। হাতে সামান্য ঘি নিয়ে সেই মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট বলের মতো গড়ে নিন। প্রয়োজনে এতে পেস্তা ও ড্রাই ফ্রুটও মেশাতে পারেন।
খেজুর ও কাঠবাদামের পুডিং
এক কাপের মতো খেজুর ও কাঠবাদাম সামান্য গরম দুধে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এর পর ব্লেন্ডারে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। বাকি দুধ ফুটিয়ে তাতে জিলেটিন পাউডার মিশিয়ে দিন। এ বার খেজুর-কাঠবাদামের পেস্ট দুধে ঢেলে ভাল করে নাড়ুন। মিশ্রণটি বাটিতে ঢেলে ফ্রিজে ২ ঘণ্টা রেখে জমিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে।
বেকড বেসন লাড্ডু
কড়াইতে তেল বা ঘি দিয়ে বেসন ভাল করে নাড়াচাড়া করে নিন। তবে, ঘি বা তেলের পরিমাণ যেন খুব বেশি না হয়। বেসনের মধ্যে স্বাদের জন্য দিন সামান্য থেঁতো করা এলাচ। এর সঙ্গে মিশিয়ে দিন শুকনো খোলায় নেড়ে নেওয়া কাজু, কাঠবাদামের কুচি। সমস্ত উপকরণ ভাল করে নাড়িয়ে নিন। মিষ্টি স্বাদ আনার জন্য দিতে পারেন স্টিভিয়ার গুঁড়ো। এ বার গোল করে লাড্ডুর আকার দিয়ে নিলেই হবে।
মিষ্টি খেলেও যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
চিনি বাদ দিয়ে মিষ্টি তৈরি করলেই সেটি ইচ্ছেমতো খাওয়া যাবে - এমনটা নয়। খেজুর, কলা, বাদাম ও দুধের মতো উপকরণে প্রাকৃতিক চিনি ও ক্যালোরি থাকে। তাই পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মিষ্টির পাশাপাশি দিনের মোট খাবারের পরিমাণ ও পুষ্টির ভারসাম্যের দিকে নজর রাখা। ঘরে তৈরি এবং পরিমিত পরিমাণের মিষ্টি তাই মাঝে মাঝে মিষ্টির স্বাদ মেটানোর একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।