উচ্চশিক্ষা

পড়াশোনা থেকে চাকরি, ডেনমার্কে শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে যেসব সুযোগ

বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তার মধ্যে নর্ডিক দেশ ডেনমার্কও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য। বিশ্বের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশগুলোর মধ্যে ডেনমার্ক অন্যতম। ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট অনুযায়ী, ডেনমার্ক বিশ্বের ৩য় সুখী দেশ এটি। দেশটির উচ্চ মানের জীবনযাত্রার কারণেও অনেকে ডেনমার্ক অভিমুখী হন।

কেন এতো জনপ্রিয়তা

শিক্ষাপদ্ধতি, উন্নত গবেষণা এবং সৃজনশীলতার জন্য ডেনমার্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য ডেনমার্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সুযোগ দিয়ে থাকে।

এছাড়া শিক্ষার্থীরা গবেষণাভিত্তিক বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য আবেদন করতে পারেন। ডেনমার্কের কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে, উচ্চশিক্ষার জন্য, বৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে, ছাত্রছাত্রীদের একাডেমিক ফলাফল ভালো থাকা বাঞ্চনীয়।

দেশটিতে পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের খন্ডকালীন কাজ করার অনুমতি রয়েছে, এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আনুষঙ্গিক খরচ বহন করতে পারেন। কিছু শর্ত পূরণ করতে পারলেই, ডেনমার্কে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া সহজ।

উচ্চশিক্ষার যোগ্যতা

বাংলাদেশ থেকে অনেক শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তরের জন্য ডেনমার্কে গেলেও দেশটিতে স্নাতক পর্যায়েও পড়ার সুযোগ রয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীরা ডেনমার্কের ব্যাচেলর, প্রফেশনাল ব্যাচেলর ও একাডেমি প্রফেশন প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারেন। তবে এজন্য তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ডেনমার্কের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার সমমান হতে হবে।

ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর একাডেমিক ফলাফল, নির্দিষ্ট বিষয়ে অর্জিত গ্রেড এবং সামগ্রিক জিপিএ বিবেচনা করা হয়। বিদেশি শিক্ষার্থীদের গ্রেড ডেনিশ ৭-পয়েন্ট গ্রেডিং স্কেলে রূপান্তর করে তুলনা করা হতে পারে। এক্ষেত্রে ডেনিশ এজেন্সি ফর সায়েন্স অ্যান্ড হায়ার এডুকেশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়। এছাড়া প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের আলাদা বিষয়ভিত্তিক এবং ভাষাগত যোগ্যতার শর্ত থাকতে পারে।

তবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাক্রমের ভর্তি শর্ত আলাদা হতে পারে। ব্যাচেলর পর্যায়ে নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা, নম্বর বা গ্রেডের শর্তও থাকতে পারে। তাই আবেদনের আগে পছন্দের শিক্ষাক্রমের নির্দিষ্ট যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় বিষয় ও অন্যান্য শর্ত দেখে নিতে হবে।  

এছাড়া ডেনমার্কের স্নাতক শিক্ষার জন্য নিবন্ধন করে যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া যেতে পারে। অথবা ফরমটি পূরণ করে সরাসরি ইউনিভার্সিটিতে পাঠালে তারা ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর যোগ্যতা যাচাই করে দেয়।

আবেদনের যোগ্যতা

ডেনমার্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, ফলাফল এবং নির্দিষ্ট শিক্ষাক্রমের সঙ্গে আগের পড়াশোনার সামঞ্জস্য বিবেচনা করা হয়। কিছু শিক্ষাক্রমে নির্দিষ্ট বিষয় পড়া বা নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রেডিট সম্পন্ন করার শর্ত থাকতে পারে।

মাস্টার্স, পিএইচডিসহ যেকোনো স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের জন্য যোগ্যতা ন্যূনতম চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি। তবে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। এ ক্ষেত্রে ডেনিশ ডিগ্রিগুলোর সমতুল্য বাংলাদেশের স্নাতক ডিগ্রিগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দিতে পারে।

ব্যাচেলর পর্যায়ের কিছু শিক্ষাক্রমে কোটা ১ ও কোটা ২ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। কোটা ১-এ মূলত উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল বিবেচনা করা হয়। আর কোটা ২-এ শিক্ষার্থীর অন্যান্য যোগ্যতা, মোটিভেশনাল লেখা, ভর্তি পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার বিবেচনায় আসতে পারে। কোন শিক্ষাক্রমে কী ধরনের শর্ত থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করে।

ভাষাগত যোগ্যতা

ইংরেজি ভাষার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের আবেদনকারীদের ইংরেজি ভাষা দক্ষতা ন্যূনতম ইংরেজি ‘বি’ ক্যাটাগরির হতে হবে। এটি মূলত ডেনিশ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রণীত ইংরেজি ভাষা দক্ষতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা। কোনো কোনো প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে ইংরেজি ‘এ’ প্রয়োজন হয়। ইংরেজি ‘বি’র সমতুল্য আইইএলটিএস স্কোর ৬ দশমিক ৫ পয়েন্ট, যেটা ইংরেজি ‘এ’-এর ক্ষেত্রে ৭ পয়েন্ট। তবে চূড়ান্ত স্কোরের শর্ত সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাক্রম নির্ধারণ করে।

ডেনমার্কে পড়াশোনার জন্য ড্যানিশ ভাষা জানা বাধ্যতামূলক নয়, যদি শিক্ষাক্রমটি ইংরেজিতে পরিচালিত হয়। বর্তমানে দেশটিতে ৫০০টির বেশি ইংরেজিতে পরিচালিত শিক্ষাক্রম রয়েছে।

সেরা বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ 

ডেনমার্কে বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। যেমন -

তবে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু র‌্যাংকিং নয়, নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পছন্দের বিষয়, টিউশন ফি ও ভর্তি শর্তও বিবেচনা করা উচিত।

চাহিদাসম্পন্ন বিষয়সমূহ

সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন বিষয়গুলোকে নিচে প্রধান কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়-

ইনফরমেশন টেকনোলজি ও কম্পিউটার সায়েন্স: ডেনমার্কে প্রযুক্তি খাতের বিস্তারের কারণে আইটি ও কম্পিউটার সায়েন্স-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও সাইবার সিকিউরিটি উল্লেখযোগ্য।

ইঞ্জিনিয়ারিং ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি: ডেনমার্কে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব রয়েছে। তাই রিনিউয়েবল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, রোবোটিকস ও অটোমেশন এবং এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স পড়তে পারেন শিক্ষার্থীরা।

লাইফ সায়েন্স ও ফার্মাসিউটিক্যালস: স্বাস্থ্য ও ওষুধশিল্পে ডেনমার্কের শক্ত অবস্থানের কারণে বায়োটেকনোলজি, বায়োমেডিসিন, হেলথটেক ও মেডিসিন-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয়। 

বিজনেস, ইকোনমিক্স ও ম্যানেজমেন্ট: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যবসার ক্ষেত্রে ডেনমার্কের অবস্থানের কারণে ফাইন্যান্স, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ও ইকোনমিক্স পড়াশোনার জন্য বেছে নিতে পারেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির সময়

ডেনমার্কের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণত বছরে দুটি সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয় –

অটাম সেমিস্টার: এটি ডেনমার্কের প্রধান শিক্ষাবর্ষ। যেখানে ব্যাচেলর ও মাস্টার্সসহ অধিকাংশ প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয়। এ সেমিস্টারের ক্লাস সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হয়।

স্প্রিং সেমিস্টার:  ডেনমার্কের দ্বিতীয় ও তুলনামূলক ছোট সেমিস্টার। এ সময়ে সীমিতসংখ্যক কোর্সে, বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয়। এ সেমিস্টারের ক্লাস সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাক্রমভেদে ভর্তির সময় ভিন্ন হতে পারে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আবেদনের সময় সাধারণত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে -

  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও নম্বরপত্র
  • পাসপোর্ট
  • ইংরেজি ভাষার দক্ষতার সনদ
  • জীবনবৃত্তান্ত
  • মোটিভেশন লেটার বা স্টেটমেন্ট অব পারপাস
  • প্রয়োজন হলে সুপারিশপত্র
  • নির্দিষ্ট শিক্ষাক্রমের চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য কাগজপত্র

তবে কোন শিক্ষাক্রমে কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন, তা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা হতে পারে। তাই আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা দেখে নিতে হবে।

ডেনমার্কে আবেদনপদ্ধতি

ডেনমার্কে স্নাতক পর্যায়ে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে হয় দেশটির কেন্দ্রীয় ভর্তি পোর্টাল Optagelse.dk-এর মাধ্যমে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের শিক্ষাগত ও ভাষাগত যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করতে হয়। আবেদন গ্রহণ ও ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর শিক্ষার্থী ডেনমার্কে পড়াশোনার জন্য রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ST1 ফর্ম ব্যবহার করা হয়। ফর্মটির একটি অংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্য অংশ শিক্ষার্থী পূরণ করেন। টিউশন ফি প্রযোজ্য হলে তা পরিশোধের প্রমাণও রেসিডেন্স পারমিটের আবেদনে প্রয়োজন হতে পারে।

মাস্টার্সসহ অন্যান্য উচ্চশিক্ষার শিক্ষাক্রমে আবেদনের সময়সীমা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাক্রমভেদে আলাদা। তাই নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আবেদনের সময়সীমা দেখে আবেদন করতে হবে।

অনলাইন আবেদনে কাগজপত্র আপলোড করার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি -

  • প্রয়োজনীয় ডিপ্লোমা ও নথি আপলোড করতে হবে।
  • নথির স্ক্যান কপি স্পষ্ট ও পাঠযোগ্য হতে হবে।
  • ফাইলের ধরন ও আকারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা মানতে হবে।
  • নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে।

রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন যেভাবে 

ভর্তির পর ডেনমার্কে পড়াশোনার জন্য রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করতে হয়। শিক্ষার্থীর আবেদন সম্পন্ন করার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদনপত্রের নির্দিষ্ট অংশ পূরণ করে দেয়। এরপর শিক্ষার্থী নিজের অংশ পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দেন।

রেসিডেন্স পারমিটের আবেদনে কেস অর্ডার আইডি তৈরি, আবেদন ফি পরিশোধ, আবেদন জমা এবং বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়া থাকে। অনলাইনে আবেদন করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হয়।

ডেনমার্কে পড়াশোনার খরচ কেমন

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সুইজারল্যান্ডের শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্তে ডেনমার্কে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (বিনা টিউশন ফিতে) পড়ার সুযোগ পান। তবে বাংলাদেশসহ অন্যান্য নন-ইইউ দেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে টিউশন ফি প্রযোজ্য।

টিউশন ফি: স্টাডি ইন ডেনমার্ক-এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বার্ষিক টিউশন ফি সাধারণত ৬,০০০ ইউরো থেকে ১৬,০০০ ইউরো হয়ে থাকে, ডেনিশ মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪৫,০০০ থেকে ১,২০,০০০ ক্রোন। (বর্তমানে ১ ডেনিশ ক্রোন = প্রায় ১৯.০৯ টাকা)

জীবনযাত্রার আনুমানিক খরচ (মাসিক): ডেনমার্কে একজন শিক্ষার্থীর থাকা-খাওয়ার গড় খরচ নিচে দেওয়া হলো: 

বাসাভাড়া: ৩,০০০ থেকে ৬,৫০০ ক্রোন

খাবার খরচ: ২,০০০ থেকে ৩,৫০০ ক্রোন

বই ও শিক্ষা উপকরণ: ৪০০ থেকে ৬৫০ ক্রোন

যাতায়াত: প্রায় ৩০০ ক্রোন

আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ: নিউ টু ডেনমার্ক-এর ২০২৬ সালের সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী, ডেনমার্কে জীবনযাপনের খরচ চালানোর সক্ষমতা হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ৭,৪২৬ ক্রোন দেখাতে হবে। সেই হিসাবে, ১ বছরের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৮৯,১১২ ক্রোন (বা সমপরিমাণ টাকা) দেখাতে হবে। উল্লেখ্য, যদি কোনো শিক্ষার্থী আগেই তার পুরো বছরের টিউশন ফি পরিশোধ করে থাকেন, তবে অনেক ক্ষেত্রে আলাদাভাবে এই আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখানোর প্রয়োজন হয় না।

রেসিডেন্স পারমিট আবেদন ফি: নতুন ফি তালিকা অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষার জন্য রেসিডেন্স পারমিটের (স্টুডেন্ট ভিসা) অফিসিয়াল আবেদন ফি ৩,০৬০ ডেনিশ ক্রোন নির্ধারণ করা হয়েছে।

খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ

ডেনমার্কে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে কত ঘণ্টা কাজ করা যাবে, তা শিক্ষার্থীর রেসিডেন্স পারমিটের শর্তের ওপর নির্ভর করে।

সরকার অনুমোদিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীরা সেপ্টেম্বর থেকে মে পর্যন্ত মাসে সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। আর জুন, জুলাই ও আগস্টে কাজের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। এ সময় শিক্ষার্থীরা পূর্ণকালীন কাজ করতে পারেন। ডেনমার্কের SIRI ও Aarhus University-এর তথ্যেও এই নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাক্রমের শিক্ষার্থীদের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। শিক্ষার্থী যে শিক্ষাক্রমে পড়ছেন সেটি রাষ্ট্র অনুমোদিত কি না, তার ওপর কাজের অধিকার পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কাজ শুরুর আগে নিজের রেসিডেন্স পারমিটের শর্ত অবশ্যই যাচাই করতে হবে।

অনুমতি ছাড়া কাজ করা বা নির্ধারিত সময়ের বেশি কাজ করা আইনভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এতে জরিমানা এবং রেসিডেন্স পারমিট নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

স্কলারশিপের সুবিধা

ডেনমার্ক সরকারের স্কলারশিপের একটি বড় অংশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরের দেশের যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকে। এই স্কলারশিপগুলো কোনো আলাদা বোর্ডের মাধ্যমে নয়, বরং ডেনমার্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরাসরি নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করে। মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ বা আংশিক টিউশন ফি মওকুফের সুযোগ পান। এর পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার খরচ চালানোর জন্য মাসিক অনুদান বা স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়।

এরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স: বিশ্বের যেকোনো দেশের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এই মর্যাদাপূর্ণ ইউরোপীয় কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারেন। ডেনমার্কের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় এই জয়েন্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামগুলোর সাথে যুক্ত রয়েছে।

এটি একটি সম্পূর্ণ অর্থায়িত স্কলারশিপ। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণ খরচ, ভিসার আবেদন ফি এবং প্রতি মাসে আকর্ষণীয় অঙ্কের লিভিং এলাউন্স (জীবনযাত্রার খরচ) দেওয়া হয়। মনে রাখা প্রয়োজন, কোন শিক্ষাক্রমে কী ধরনের অর্থায়ন বা সুযোগ-সুবিধা থাকবে, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কোর্স ও কর্মসূচির নিজস্ব নিয়মের ওপর নির্ভর করে।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ পুষিয়ে নেওয়ার জন্য ডেনমার্কের বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করতে পারেন।

পড়াশোনা শেষে চাকরির সুযোগ

স্নাতক বা উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর ডেনমার্কে চাকরি খোঁজার জন্য শিক্ষার্থীরা ৬ মাস সময় পান। এই সময়ের মধ্যে চাকরি পেলে সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী কাজের অনুমতি নিয়ে ডেনমার্কে অবস্থান করা যায়। আর চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত বৈধভাবে থাকার জন্য রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হয়।

পড়াশোনার জন্য রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করার সময়ই শিক্ষার্থীরা ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া পরবর্তী সময়ে ডেনমার্কের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছেও ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

শেষ কথা

উন্নত জীবনযাত্রা, শিক্ষাব্যবস্থা এবং চমৎকার ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগের কারণে ডেনমার্ক বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম শীর্ষ পছন্দ। যদিও নন-ইইউ দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য খরচ কিছুটা বেশি, তবুও সঠিক পরিকল্পনা, ভালো একাডেমিক রেকর্ড এবং স্কলারশিপের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডেনমার্কে আপনার স্বপ্নের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

তাই ডেনমার্কে পড়াশোনার আগ্রহ থাকলে প্রথমেই পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাক্রমের ভর্তি-শর্ত, আবেদনের সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করুন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল পোর্টালে আবেদন করে পরবর্তী ধাপগুলো সময়মতো সম্পন্ন করুন। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও ডেনমার্কের সরকারি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করতেও ভুলবেন না।