বাগানবিলাস আর রবীন্দ্রনাথ 

দক্ষিণ আমেরিকার মহাদেশে জন্ম নেওয়া এক বিদেশি ফুল-গাছ, যার নাম ‘বাগানবিলাস’ দিয়েছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বর্ণিল রঙের অধিকারী এই ফুল গাছের নাম হচ্ছে বোগেনভিলিয়া। 

ফরাসি আবিষ্কারক লুই অটোইন ডি বোগেনভিল-এর নাম অনুসারে এ গাছের নামকরণ করা হয়। তিনি ব্রাজিলের বনে এই উদ্ভিদটি প্রথম দেখেন। এর আদি নিবাস হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, পেরু ও আর্জেন্টিনা। 

আকর্ষণীয় এই বিদেশি ফুল গাছের দেশি নামের পেছনে বিশেষ এক কারণ রয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। আমাদের দেশে প্রথম এই ফুল যখন আনা হয়, তখন এটি কেবলমাত্র এদেশের অভিজাত শ্রেণির লোকদের বাড়িতেই শোভা পেতো। অভিজাত শ্রেণিতে তখন এটি ইংরেজি নাম বোগেনভিলিয়া হিসেবেই পরিচিতি ছিল। 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফুলের রূপ রঙে কবি মুগ্ধ হলে এর ইংরেজি নামটি তার মোটেও মনে ধরেনি। তখন তিনি তার কবি মনের মাধুরী মিশিয়ে এটির নাম দেন ‘বাগানবিলাস’। 

রঙিন কাগজের মতো বিভিন্ন রঙের ফুল ধরার কারণে একে ‘কাগজ ফুল’ও বলা হয়। এছাড়া এটি বাড়ির গেটে স্থান পাবার সুবাদে ভারত-বাংলাদেশে ‘গেটফুল’ নামেও পরিচিত। 

আমেরিকার ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনের সংগ্রহে থাকা একটি গবেষণাপত্রের তথ্য বলছে, বোগেনভিলিয়ার ফুলে এবং পাতায় রয়েছে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ক্যানসার, আলসার, ডায়াবিটিস, প্রদাহ প্রতিরোধক উপাদান। এছাড়াও রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। 

এ উদ্ভিদটির প্রায় ১৮ প্রজাতি রয়েছে। বাগানবিলাস একটি চির সবুজ কাষ্ঠল লতান উদ্ভিদ। রানি, ফুশিয়া, মেরুন, দুধে আলতা, সাদা, হলুদ, বেগনি-বোগেনভিলিয়ার রঙের শেষ নেই। দ্রুত বেড়ে ওঠা এই গাছে মূলত ১৪ রকম রঙের ফুলও আসে খুব সহজেই। সমগ্র পৃথিবী জুড়েই এদের বিচরণ দেখা যায়। 

ফুটন্ত বাগানবিলাসের সৌন্দর্য খুবই মনোরম, যা সবারি নজর কাড়ে। এর রূপ-সৌন্দর্য জনপ্রিয় বলে প্রকৃতিবিদরা বাগানবিলাসকে অর্নামেন্টাল প্ল্যান্ট বা শোভাবর্ধক উদ্ভিদ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।