মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মুখে ঝরে
মাকে মনে পড়ে আমার মাকে মনে পড়ে
মা, ছোট্ট এক শব্দ, কিন্তু ব্যাপ্তি অনেক। মাকে মনে করতে, ভালোবাসতে বিশেষ কোনো সময় লাগে না বা দিনক্ষণ কিছুই লাগে না। আনন্দ-উদ্দীপনে, বিপদে-আপদে ছায়া হয়ে থাকা নির্ভরতার এক নাম মা। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দের নামও, ‘মা’।
আজ বিশ্ব মা দিবস। প্রতিবছর ঘুরে ঘুরে এই দিনটি আসে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারগুলোয়। এর পেছনে রয়েছে, মা-মেয়ের চমৎকার এক ইতিহাস।
প্রচলিত রয়েছে, ভার্জিনিয়ায় অ্যান নামে এক শান্তিবাদী সমাজকর্মী ছিলেন। তিনি কাজ করতেন নারী অধিকার নিয়ে। ‘মাদারস ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ নামে একটি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। অ্যানের একটি কন্যাসন্তান ছিল, তার নাম আনা মারিয়া রিভস জারভিস। একদিন ছোট্ট মেয়ের সামনেই অ্যান হাত জোর করে বলেছিলেন, “আমি প্রার্থনা করি, একদিন কেউ না কেউ, মায়েদের জন্য একটা দিন উৎসর্গ করুক। কারণ তারা প্রতিদিন মনুষ্যত্বের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে চলেছেন। এটি তাদের অধিকার।”
১৯০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আনা জারভিস নামে ওই নারী মারা গেলে, তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের কাজকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সচেষ্ট হন। ওই বছর তিনি তার সান ডে স্কুলে প্রথম এ দিনটিকে “মা দিবস” হিসেবে পালন করেন।
পরে ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে ‘মা দিবস’ ঘোষণা করেন। এরপর থেকে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস হিসাবে উদযাপন করে আসছে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ। কেউ ফুল দিয়ে, চকোলেট দিয়ে কিংবা সারাটাদিন মায়ের সঙ্গে সময় কাটিয়ে দিনটি উদযাপন করে।
আর যার মা নেই? কবিগুরুর ‘মনে পড়া’ কবিতাটি তাদের জন্য,
``মাকে আমার পড়ে না মনে।
শুধু কখন খেলতে গিয়ে
হঠাৎ অকারণে
একটা কী সুর গুনগুনিয়ে
কানে আমার বাজে,
মায়ের কথা মিলায় যেন
আমার খেলার মাঝে।
মা বুঝি গান গাইত, আমার
দোলনা ঠেলে ঠেলে;
মা গিয়েছে, যেতে যেতে
গানটি গেছে ফেলে।
মাকে আমার পড়ে না মনে।
শুধু যখন আশ্বিনেতে
ভোরে শিউলিবনে
শিশির-ভেজা হাওয়া বেয়ে
ফুলের গন্ধ আসে,
তখন কেন মায়ের কথা
আমার মনে ভাসে?"



