কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলে মেতেছে পুরো বিশ্ব। ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরকে ঘিরে উত্তেজনা এখন ঘরে ঘরে। নিজের পছন্দের দল জিতলে যেমন আনন্দ হয়, তেমনিভাবে হেরে গেলে কষ্টের সীমা নেই। পছন্দের দলের খেলার দিন যেন আবেগে ফেটে পরে সমথর্কেরা।
খেলোয়াড়রা মাঠে খেলেন আর তাদের সঙ্গে মানসিকভাবে খেলেন কোটি কোটি ভক্ত অনুরাগী দর্শক।
জয় সবসময় মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে আর হেরে যাবার ব্যাথার সঙ্গে থাকে নিজেকে ঢেলে সাজাবার নতুন অঙ্গীকার।
দর্শকদের কাছেও খেলা শুধু খেলা নয়, এটা আবেগ, বন্ধন, ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ একইসঙ্গে আমাদের "আমি" র বহিঃপ্রকাশ। আমরা জিতবই। আর হেরে গেলেও বারবার জিতে যাবার অঙ্গীকারে একসঙ্গে থাকবো। এ যেনো শরীরের শক্তি আর মনকে কেন্দীভূত করে জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার মরণপণ লড়াই। মানসিক স্বাস্থ্য বিশষজ্ঞদের মতে, খেলার সঙ্গে এই একত্মতা বিষণ্ণতা থেকে দূরে রাখাসহ ভক্ত সমর্থকদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। আর যারা নিয়মিত খেলাধুলা করেন, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুস্থতায় তো এর ভূমিকা অপরিসীম। চলুন জেনে নিই খেলাধুলার কিছু মানসিক সুবিধা-
বিজ্ঞানীরা ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যায়াম এবং মেজাজের মধ্যে যোগসূত্র অন্বেষণ করছেন। ফলস্বরূপ, তারা খেলাধুলা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যেযোগসূত্র সহ শারীরিক কার্যকলাপ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গবেষণার একটি বড় অংশ তৈরি করেছেন।
- ব্যায়াম সেরোটোনিনের মাত্রাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের সুস্থতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং নিউরোট্রান্সমিটার নরপাইনফ্রাইনকে উদ্দীপিত করে, যা মন মেজাজ ভালো রাখে।
- শারীরিক কার্যকলাপ শরীরের প্রাকৃতিক "সুখী রাসায়নিক পদার্থ" এন্ডোরফিন নির্গত করে এবং স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমায়।
- স্ট্রেস, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মহত্যামূলক আচরণের নিম্নহারের সঙ্গে খেলাধুলা ইতিবাচকভাবে জড়িত।
- দলগত খেলায় অংশগ্রহণ কিশোরদের নেশা এবং অন্যান্য বেপরোয়া আচরণের ঝুঁকি কমায়। কিশোর-কিশোরীরা যখন শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকে তখন ঘুমের উন্নতি ঘটে। ঘুম মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত রাখার জন্য অপরিহার্য।
- দলগত খেলা স্থিতিস্থাপকতা, সহানুভূতি, আত্মবিশ্বাস এবং ক্ষমতায়ন বাড়ায়। কার্যনির্বাহী কার্যকারিতা (executive Function), সৃজনশীলতা, জ্ঞানীয় বিকাশ এবং স্ব-নিয়ন্ত্রণ বাড়তেও দেখা যায়।
- দলীয় আচরণ, নেতাকে অনুসরণ এবং খেলায় দলকে জেতানোর মনোভাব থেকে সামাজিক দায়িত্ববোধের জন্য সহায়ক।
- খেলাধুলার জন্য বেশি সময় ব্যয় করা গেলে, একজন কিশোর সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য কম সময় পায়, যা কিশোর-কিশোরীদের সুস্থতাকে প্রভাবিত করে বলে প্রমাণিত হয়।
প্রকৃতপক্ষে, গবেষণা দেখায় যে খেলাধুলা এবং অন্যান্য ধরণের শারীরিক ক্রিয়াকলাপগুলো মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুখের স্তরের উন্নতিতে ওষুধের মতো সমানভাবে কার্যকর হতে পারে। আমরা খেলতে খেলতেই শিখি "হার-জিত চিরদিন থাকবেই"। তাই এই অভিজ্ঞতা থেকে জীবনকেও সাজিয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে কিনা ভাবতে হবে।
ফারজানা ফাতেমা (রুমী), মনোবিজ্ঞানী।