আজকাল প্রায়ই বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হন অনেকে। ছোটখাটো আগুনে পোড়ার প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের পাঠকদের জন্য লিখেছেন ডা. মুহম্মদ মুহিদুল ইসলাম।
অগ্নি নির্বাপণ: পোড়ার ক্ষতের চিকিৎসার প্রথম ধাপ হলো জ্বলন প্রক্রিয়া বন্ধ করা। পোড়া জায়গার সংস্পর্শে থাকা পোশাক বা গয়না সরিয়ে ফেলুন এবং কমপক্ষে ২০ মিনিটের জন্য ঠাণ্ডা পানি দিয়ে আক্রান্ত স্থানটি ধুয়ে ফেলুন।
পোড়ার ক্ষতটি মূল্যায়ন: পরবর্তী ধাপ হলো পোড়ার তীব্রতা নির্ণয় করা। গভীরতা এবং মাত্রার ভিত্তিতে পোড়াকে প্রথম ডিগ্রি, দ্বিতীয় ডিগ্রি বা তৃতীয়-ডিগ্রি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। সাধারণত চিকিৎসকরা এই কাজটি করে থাকেন বড় ধরনের দগ্ধ রোগীর ক্ষেত্রে। এর ওপর ভিত্তি করেই চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়।
পোড়ার ক্ষতের পরিচ্ছন্নতা: একবার পোড়ার মূল্যায়ন হয়ে গেলে, সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য আক্রান্ত স্থানটি পরিষ্কার করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেই অধিকাংশ ময়লা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
জীবাণুমুক্ত ড্রেসিং প্রয়োগ: পোড়া পরিষ্কার করার পরে, আর্দ্রতা রক্ষা করতে এবং সংক্রমণ রোধ করতে একটি জীবাণুমুক্ত ড্রেসিং প্রয়োগ করুন। প্রাথমিকভাবে সিলভার সালফাডায়াজিন ১% ক্রিম মাখা যায়। তবে একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করা ভালো।
ব্যথার ওষুধ প্রয়োগ: পোড়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক হতে পারে, তাই ব্যথা কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত ওষুধ দিতে হবে। ছোটখাটো ক্ষত তৈরি হলে ফোনেও চিকিৎসকের কাছ থেকে ওষুধের পরামর্শ নেওয়া যায়।
সংক্রমণ বা ইনফেকশনের লক্ষণ আছে কি-না দেখতে হবে। যেমন লালভাব, ফোলা বা পুঁজ আছে কি-না। এই উপসর্গগুলো দেখা গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সাধারণভাবে মুখ, হাত, পায়ে বা যৌনাঙ্গে অবস্থিত তিন ইঞ্চির বেশি ব্যাসের পোড়া বা হাড়ভাঙা বা বৈদ্যুতিক শকের পোড়া হয়ে থাকলে হসপিটালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেওয়া উচিৎ।
ডা. মুহম্মদ মুহিদুল ইসলাম
এমবিবিএস, এমপিএইচ (কোর্স)
টেলিমেডিসিন এক্সপার্ট, ডক্টরি ক্লিনিক;
সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি কোভিড-১৯ ডায়াগনস্টিক ল্যাব