কোরবানি মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি মহৎ ইবাদত। এটি একটি আর্থিক ও আত্মিক ইবাদত। একনিষ্ঠ নিয়তে নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদ বা টাকার মালিকদের জন্য কোরবানি করা আবশ্যক। কিন্তু কী পরিমাণ সম্পদ বা টাকা থাকলে কোরবানি করা আবশ্যক?
যদি ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন নারী বা পুরুষ অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব।
কোরবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য পণ্য হলো-টাকা-পয়সা, স্বর্ণ-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না- এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি-গাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র। আর নেসাবের পরিমাণ হলো- স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৮৭.৪৮ গ্রাম) ভরি, রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে ৫২ (৬১২.৩৬ গ্রাম) ভরি এবং টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে নিসাব হলো- এর মূল্য সাড়ে ৫২ ভরি রুপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া।
যদি স্বর্ণ-রুপা বা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্তু মিলে সাড়ে ৫২ তোলা রুপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায়, তাহলেও তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।
১৬ জুন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) রেট অনুযায়ী ৫২.৫ তোলা সনাতন রুপার দাম হলো ৫৫ হাজার ৯৫ টাকা টাকা। তবে কোরবানি ওয়াজিব হবে ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সাড়ে ৫২ ভরি রুপার যে দাম থাকবে, তার ওপর ভিত্তি করে।
তথ্যসূত্র : (আলমুহিতুল বুরহানি ৮/৪৫৫ ও ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫)