প্রবাল-শামুক-ঝিনুক আর সবুজে ঘেরা এক দ্বীপ। যেখানে পর্বত আর সুমদ্রের মধ্যে ঘটেছে মধুর মিলন। অপার সৌন্দর্যের জন্য এই দ্বীপকে বলা হয় পৃথিবীর বুকে এক খণ্ড স্বর্গ। আর এটি নবদম্পতির মধুচন্দ্রিমাকে মোহনীয় করে তুলতে বিখ্যাত।
নাম বোরা বোরা। ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ার ছোট্ট এই ভূখণ্ড গড়ে উঠেছে গাহিয়া আর ওতেনামো নামের দুটি পর্বতকে ঘিরে। দ্বীপের ঠিক মাঝখানে রয়েছে হৃদপিণ্ডের মতো রয়েছে এক ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি।
অগভীর তীরের কাছের স্বচ্ছ পানি জুড়ে বিচরণ হাজার রকমের রঙিন মাছের।
প্রবাল কানন আর মনকাড়া সবুজের চারদিকে রয়েছে নীল প্রশান্ত মহাসাগর। দ্বীপটি উপর থেকে একটি মালার মতো মনে হয়।
দ্বীপটি উপর থেকে একটি মালার মতো মনে হয়/ সংগৃহীতঅপূর্ব তীরের ওপরেই তৈরি হয়েছে মনোরম রিসোর্ট। টলটলে পানির ওপর থেকে পর্বতের দৃশ্য দেখতে দারুণ লাগে। এখানকার রিসোর্টে রুম সার্ভিস দেওয়া হয় ছোট ছোট ক্যানুতে করে। এ রিসোর্টগুলোর প্রত্যেকটি পানির উপরে গড়ে ওঠা আলাদা এক একটি বাংলো।
প্রত্যেকটি বাংলো এমনভাবে তৈরি যখন ইচ্ছে পানিতে ঝাপিয়ে পড়তে পারবেন ও উঠতে পারবেন। প্রশান্ত মহাসাগরের হাজার রকমের মাছ ঘুরে বেড়ায় এ লেগুনে। তার মধ্যে হাঙরও রয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের হাজার রকমের মাছ ঘুরে বেড়ায় এ দ্বীপের অগভীর জলে/সংগৃহীততবে ভয়ের কিছু নেই, এই প্রজাতির হাঙর মানুষকে আক্রমণ করে না। চাইলে হাঙরগুলোকে খাওয়াতেও পারেন।
তবে কিছুটা কম খরচের কিছু রিসোর্টও আছে যেগুলো পানির উপর না, দ্বীপের দিকে। সেগুলোর সৌন্দর্যও কোনো অংশে কম না। শুধু রিসোর্টের সৌন্দর্য নয়, বোরা বোরা দ্বীপে প্যারাসেইলিং করা যায়।
এছাড়াও রয়েছে আরো অনেকগুলো অ্যাডভেঞ্চার। হেলিকপ্টার ভাড়া করে ঘোরা যায় পুরো দ্বীপ। যেতে পারেন স্বচ্ছ তলদেশে বোট নিয়ে ঘুরতে। দ্বীপগুলোর খাবারের কথা তো বলাই হয়নি।
টলটলে পানির ওপর তৈরি হয়েছে মনোরম রিসোর্ট/সংগৃহীতএখানে সব খাবারই পরিবেশন করা হয় তবে সীফুডের প্রাধান্যই থাকে বেশি।
যাতায়াতের মাধ্যমের ঝামেলা ও খরচের আধিক্য একটু বেশি। সংশ্লিষ্ট ওয়েব সাইট ঘেঁটে জানা যায়, রিসোর্টের প্রতিদিনের ভাড়া বাংলাদেশি টাকায় ৭০,০০০ টাকার মতো।
পানির উপরের বাংলোগুলোতে না থেকে দ্বীপের দিকে থাকলে ভাড়া কিছুটা কম পড়বে। তবে সেটাও ৫০,০০০ টাকার কম না। আর অ্যাডভেঞ্চার এর জন্য আলাদাভাবে ৩২,০০০ টাকা খরচ পড়বে।
তবে পর্যটকরা এর থোড়াই কেয়ার করেন। বিশেষ করে মধুচন্দ্রিমার জন্যে জায়গাটি মানানসই। বলা হয়ে থাকে মধুচন্দ্রিমার জন্যেই এই দ্বীপ। ফলে নতুন বিবাহিত দম্পতিরা ঘুরেই আসতে পারেন বোরা বোরা!