লো ব্যাক পেইনের (কোমর বা মাজা ব্যথার) প্রাদুর্ভাব আমাদের দেশে অত্যন্ত বেশি। অনেকেই এর জন্য তীব্র যন্ত্রণায় ভোগেন। ভুক্তভোগীর কর্মক্ষমতা হ্রাস পায় এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম বন্ধ রাখতে হয়।
লো ব্যাক পেইনের অনেক কারণ থাকতে পারে। সচরাচর এটা মেরুদণ্ডের পশ্চাৎদেশীয় অংশে অতিরিক্ত চাপ বাড়ার কারণে হয়ে থাকে। কখনো কখনো এটা মেরুদণ্ডের হাড়ের (কশেরুকা) বয়সজনিত ক্ষয়ের (লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস) কারণে হয়। কখনো কখনো এটা দুই কশেরুকার মাঝের কচি হাড় পেছনে সরে যাওয়ার কারণেও হতে পারে।
একবার কোমরে ব্যথা হয়েছে এমন কেউ শুশ্রুষা না নিলে এটির পুনরাবৃত্তি হতে পারে। নিতে পারে দীর্ঘমেয়াদী বা চিরস্থায়ী রোগের রূপ। ক্ষেত্রবিশেষে বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে অস্ত্রোপচার ছাড়া চিকিৎসার পথ থাকে না।
কোমরের সুরক্ষার কিছু পদ্ধতি এখানে দেওয়া হলো-
• হাঁটা, দাঁড়ানো ও বসা অবস্থায় কোমরকে যথাসম্ভব সোজা বা টান টান রাখবেন । ইংরেজিতে বলা হয় "স্ট্যান্ড টল অ্যান্ড সিট টল"। হেলান দেওয়ার সময় পিঠ ও কোমর চেয়ারের পিঠে ঠেকিয়ে বসবেন। যাতে চেয়ারের পিঠ ও আপনার কোমরের মধ্যে কোনো ফাঁকা না থাকে।
• সামনে ঝুঁকবেন না। নিচু জায়গা থেকে কিছু তুলতে হলে কোমর যথাসম্ভব সোজা রেখে হাঁটু গেড়ে বসবেন, জিনিসটা ধরবেন এবং কোমর সোজা রেখেই উঠে দাঁড়াবেন। কোনো কিছু সরাতে হলে ঠেলে সরাবেন, টানবেন না।
• ভার বহন করবেন না। অপরিহার্য ক্ষেত্রে দু'হাতে সমান ভাগ করে ওজন নেবেন।
• একটানা দীর্ঘদিন বসে কাজ করতে হলে কোমর সোজা রেখে কাজ করবেন, মাঝে মধ্যে উঠে দাঁড়িয়ে কোমর টানটান করবেন এবং মাঝে মাঝে কিছুটা হেঁটে আসবেন। একটানা অধিক সময় বেশি হাঁটবেন না বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
• ওজন বাড়তে দেবেন না। ওজন বেশি হলে কমানোর চেষ্টা করবেন। এজন্য চর্বিযুক্ত খাদ্য, গরু, খাসি ও ফাস্টফুড এড়িয়ে চলবেন। পরিমিত আহার করবেন। প্রচুর সবজি খাবেন। নিয়মিত ব্যায়াম করবেন।
• ধূমপান করবেন না।
• দৈনন্দিন চলাফেরা ও ব্যায়ামের ব্যাপারে ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন।
ডা. মুহম্মদ মুহিদুল ইসলাম
এমবিবিএস, এমপিএইচ (কোর্স)
চিফ মেডিকেল অফিসার, ডায়াগনস্টিক পয়েন্ট এন্ড রিসার্চ ল্যাব