ভিজব কি, ভিজব না?

বৃষ্টি, বাদল কিচ্ছু না। বরিশালের দাদি সোনাবরু আকাশে মেঘ জমলে বলতেন, “বইন্যা নামবেয়ানে!” আকাশের পরত তার চেনা। এমন চেনা বহুজনের। কিন্তু ভাষা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় ‘‘বৃষ্টি’’ আর ‘‘বন্যা’’র মধ্যে আছে বিরাট তফাৎ। গরম তাড়ানো বৃষ্টি উপভোগ্য। তাতে ফিরে আসেন রবীন্দ্রনাথ। আহ্লাদে ভেজা প্রেমিক পুরুষ তার নিজস্বী নারীর হাতে তুলে দেয় তখন কদমগুচ্ছ।

কিন্তু ‘‘বন্যা’’ এক দুর্যোগ। বড় ভোগায়, ভাসায় আর কাঁদায় নদীপাড়ের জনপদ। আবার পলিমাটি বয়ে আনে সম্ভাবনা। সহায় হয় গ্রামের শস্য-শিল্পীর পরের আবাদে। তবে শহর ঢাকার ব্যাধি বড় চরমে। আকাশে মেঘ রাজধানীতে যেন এক আতঙ্ক। অসহ্য গরমে ভিজব কি ভিজব না?- এখন প্রশ্ন। 

নদী, খাল, জলাভূমির খুনি এ শহর। সহ্য সীমা আছে প্রকৃতিরও। ক্ষমাহীন তার প্রতিশোধ। বৃষ্টি তখন রূপ নেয় বল্লমের ফলায়। প্রকৃত জলের ধর্ম বদলে যায়। এক কথায় সেই সুমনের গানের লাইন- “শহুরে বৃষ্টি জলকাদা মাখা নোংরা দেদার..”   

নোংরা যায় ধুয়ে ফেলা। কিন্তু সমসময়ের শহুরে বৃষ্টি প্রাণঘাতী। দমকা বাতাসে ভাঙে গাছের ডাল। মরে মানুষ। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে। আবারও মরে মানুষ। অ্যাসিড বৃষ্টির কথা আগে জানা ছিল। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা মেঘ ও বৃষ্টির পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের খোঁজ পেয়েছেন। এমন মারাত্মক অশনি বার্তা সভ্যতার আগে জানা ছিল না। তাই বড় প্রশ্ন এখন- স্নিগ্ধ ধারায় ভিজব কি, ভিজব না? হে উচ্চতার মেঘ, কেন তুমি হয়ে উঠলে আগ্নেয়গিরি? কেন পাঠাচ্ছ জমিনে বিষমাখা এমন লাভা?

উত্তর পেলাম না কোনো। বরং বজ্রপাতে বিচ্ছিন্ন হলো ইন্টারনেট সংযোগ।