প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা কোথায় হয়েছিল, কেমন ছিল সেই আয়োজন

মঙ্গল শোভাযাত্রা। বাংলা নববর্ষের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে এই আয়োজনের নাম। প্রতি বছর এই আয়োজনের মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে। পুরোনো গ্লানি ভুলে এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রার্থনা করা হয় সুন্দর আগামীর।

বাংলাদেশের প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রার গোড়াপত্তন হয় যশোর থেকে। বাংলা ১৩৯৩ অর্থাৎ ১৯৮৫ সালে প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয় শহরের চারুপীঠ নামে এক সংগঠনের হাত ধরে। যার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন মাহবুব জামাল শামীম, হীরন্ময় চন্দ্রসহ আরও অনেকে। এর আগে বাংলা নববর্ষকে ঘিরে কোনো শোভাযাত্রা আয়োজনের ইতিহাস পাওয়া যায় না।

আয়োজনের মূল থিম শিল্পী ছিলেন কিংবদন্তি চিত্রকর এস এম সুলতান এবং কবি আজিজুল হক।

প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রায়র থিম শিল্পী ছিলেন এস এম সুলতান/শিল্পী দুলুর সৌজন্যে

সেই আয়োজনের প্রত্যক্ষদর্শীরা মনে করেন, তৎকালীন স্বৈরশাসন ও সাম্রাজ্যবাদী সংস্কৃতির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিল প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের প্রতীক।

যশোরের সেই শোভাযাত্রায় ছিল পাপেট, বাঘের প্রতিকৃতি, পুরনো বাদ্যসহ আরও অনেক শিল্পকর্ম। 

দেশের প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রার অন্যতম উদ্যোক্তা মাহবুব জামাল শামীম ২০১৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনিসহ চারুপীঠের হিরন্ময় চন্দ, ছোট শামীম এবং আরও কয়েকজন সে সময় এ কাজে অংশ নিয়েছিলেন। এর আগে এই উপমহাদেশে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শোভাযাত্রার কোনো ইতিহাস নেই। সেদিনের সে আয়োজনের পর তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হয় নববর্ষের এ আয়োজন।

যশোরে আয়োজিত প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রায় ছিল নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণ/শিল্পী দুলুর সৌজন্যে

তখন এর নাম ছিল ‘‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’’। ১৯৯০ সালে সঙ্গীতজ্ঞ ওয়াহিদুল হক ও ভাষাসৈনিক ইমদাদ হোসেনের পরামর্শে বর্ষবরণের এই শোভাযাত্রাকে ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’’ নামকরণ করা হয়।

পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে (বাংলা ১৩৯৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর চারুকলা ইন্সটিটিউট যশোরের আদলে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু করেন। ঢাবি শিক্ষার্থীদের অনুসরণে পরের বছর বরিশাল, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহে বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। এরপর ধীরে ধীরে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।