Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ১১:২৭ এএম

আজ বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী।

১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। নড়াইলের কুড়িগ্রামে তাকে শায়িত করা হয়।

শিল্পী এসএম সুলতানের জন্ম ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট। নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে তাঁর। শিক্ষাজীবনের শুরুতে ১৯২৮ সালে ভর্তি হন নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে। স্কুলের অবসরে রাজমিস্ত্রি বাবাকে কাজে সহযোগিতা করতেন শেখ মোহাম্মদ সুলতান। এ সময়েই ছবি আঁকায় হাতেখড়ি হয় তাঁর। সুলতানের আঁকা সেই সব ছবি আর্কষণ করে তৎকালীন স্থানীয় জমিদারদের দৃষ্টি। 

নড়াইলের জমিদার ব্যারিস্টার ধীরেন রায়ের আমন্ত্রণে ১৯৩৩ সালে রাজনীতিক ও জমিদার শ্যামাপ্রাসাদ মুখোপাধ্যায় ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুল পরিদর্শনে যান। সেখান তাঁর একটি প্রতিকৃতি (পোট্রেট) এঁকে শ্যামাপ্রাসাদসহ অন্যদেরও মুগ্ধ করে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সুলতান।

এরপর লেখাপড়া ছেড়ে ১৯৩৮ সালে কলকাতায় গিয়ে ছবি আঁকা ও জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। সে সময় তাঁর পরিচয় হয় চিত্র সমালোচক শাহেদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে। সোহরাওয়ার্দীর সুপারিশে অ্যাকাডেমিক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ১৯৪১ সালে কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তির সুযোগ পান সুলতান।

১৯৪৩ মতান্তরে ’৪৪ সালে আর্ট স্কুল ত্যাগ করে ঘুরে বেড়ান এখানে-সেখানে। এরপর জীবনের নানা চরাই-উৎরাই পেরিয়ে এবং সংগ্রামী জীবনের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে গেছেন।

বাংলার কৃষক, জেলে, তাঁতি, কামার, কুমার, মাঠ, নদী, হাওর, বাঁওড়, জঙ্গল, সবুজ প্রান্তর ইত্যাদি সুলতানের শিল্পকর্মের বিষয় ছিল ।

চিত্রাঙ্কনের পাশাপাশি বাঁশি বাজাতে পটু ছিলেন এই গুণী।  সাপ, ভল্লুক, বানর, খরগোশ, মদনটাক, ময়না, গিনিপিক, মুনিয়া, ষাঁড়সহ বিভিন্ন প্রাণী ছিল তাঁর পোষা প্রাণীর তালিকায়।

চিত্রশিল্পের খ্যাতি হিসেবে পেয়েছে ভূয়সী প্রশংসা আর পুরষ্কার। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কারে তাকে নানা সময় ভূষিত করা হয়।

১৯৮২ সালে একুশে পদকসহ ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকেও ভূষিত হন তিনি।

১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি এবং ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননায় ভূষিত হন এস এম সুলতান।

সুলতানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সুলতান ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আজ বুধবার সকালে শিল্পীর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল, কোরআনখানি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। 

   

About

Popular Links

x