Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পান্তা-ইলিশ: বৈশাখের চিরায়ত ঐতিহ্য, নাকি শহুরে ট্রেন্ড?

অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা আর আধুনিক নগর সংস্কৃতির মিশেলে তৈরি হয়েছে এই ঐতিহ্য

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম

পহেলা বৈশাখ এলেই ভেসে ওঠে রঙিন উৎসবের ছবি চারুকলার বৈশাখী শোভাযাত্রা, লাল-সাদা পোশাক আর উৎসবমুখর মানুষের ভিড়। এই আনন্দঘন আয়োজনের সঙ্গে এখন যেন অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে গেছে পান্তা-ইলিশ। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় এই খাবারের সঙ্গে বৈশাখের সম্পর্ক কতটা ঐতিহাসিক, আর কতটা আধুনিক নির্মাণ?

পান্তা ভাত বাংলার গ্রামীণ জীবনের বহু পুরনো খাদ্যসংস্কৃতির অংশ। আগের রাতের ভাত পানিতে ভিজিয়ে সকালে খাওয়া এ ছিল কৃষিজীবী মানুষের সহজ, সাশ্রয়ী ও পুষ্টিকর খাদ্য। গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা রাখা ও সহজ হজমের জন্য পান্তা ছিল আদর্শ খাবার। এর সঙ্গে থাকত লবণ, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ বা ভর্তা। সাদামাটা হলেও যেন পরিপূর্ণ এক খাবার।

তবে বৈশাখের সঙ্গে ইলিশ খাওয়ার ঐতিহ্য গ্রামবাংলায় খুব একটা দেখা যায় না। বরং বাস্তবতা ছিল ভিন্ন ইলিশ ছিল দামী এবং সবার নাগালের বাইরে। ফলে পান্তার সঙ্গে ইলিশ খাওয়া ছিল না সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বা উৎসবের চর্চা।

গবেষকদের মতে, পান্তা-ইলিশের জনপ্রিয়তা মূলত ৯০ এর দশকের পর থেকে বাড়তে শুরু করে, বিশেষ করে শহুরে মধ্যবিত্ত সমাজে। বৈশাখ উদযাপনের একটি প্রতীকী খাবার হিসেবে এটি ধীরে ধীরে জায়গা করে নেয়।

সময়ের সঙ্গে পান্তা-ইলিশ এখন উৎসবকেন্দ্রিক বাণিজ্যের অংশ হয়ে উঠেছে। পহেলা বৈশাখে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে “বৈশাখী থালি” বিশেষ আকর্ষণ, যার কেন্দ্রবিন্দু ইলিশ ভাজা। এই থালার দাম অনেক ক্ষেত্রেই হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়, যা নিয়ে সমালোচনাও কম নয়। অনেকে একে বাঙালির ‘খাদ্যবিলাসের’ প্রতীক বলেও মন্তব্য করেন।

ঐতিহাসিকভাবে পান্তা-ইলিশ বৈশাখের অবিচ্ছেদ্য অংশ না হলেও, বর্তমান সময়ে এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক শক্তিশালী প্রতীক। শহুরে মানুষ এই খাবারের মাধ্যমে যেন নিজের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ খোঁজে গ্রামের সরলতা, মাটির গন্ধ আর নস্টালজিয়ার এক মিশ্র অনুভূতি।

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, পান্তা-ইলিশ শুধু একটি খাবার নয় এটি একটি সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি। বাস্তব ঐতিহ্য হোক বা আধুনিক নির্মাণ বৈশাখের আনন্দে এর উপস্থিতি এখন অনস্বীকার্য।

   

About

Popular Links

x