গরমে স্বস্তি পেতে এয়ারকন্ডিশনার বা এসির দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই। যারা এতদিন এসি ব্যবহার করেননি, তারাও ভাবছেন ঘরে নতুন এসি লাগানোর ব্যাপারে। অনেকেই এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন- কারণ মাস শেষে মোটা অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে ভেবে। তবে এসির বিল কমিয়ে পকেটের ওপর চাপ কমানোর বেশ কিছু উপায় রয়েছে।
যেভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যায়-
দরজা-জানালা বন্ধ রাখা
রুমে ফাঁকফোকর থাকলে ঠান্ডা বাতাস বের হয়ে যায়। ফলে এসিকে আরও বেশি শক্তি খরচ করে কাজ করতে হয়। যার কারণে বিদ্যুৎ বিল আসে বেশি। তাই এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহারের সময় রুমের দরজা-জানালা এবং ফাঁকা বন্ধ রাখুন। জানালা-দরজা বন্ধ রেখে এসি চালালে ঘর দ্রুত ঠাণ্ডা হয়। বিদ্যুৎও সাশ্রয় হয়।
তাপ উৎপন্নকারী যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ
আপনার এয়ারকন্ডিশনারের থার্মোস্ট্যাট থেকে তাপ উৎপন্নকারী যন্ত্রপাতি যেমন- টেলিভিশন, কম্পিউটার এবং ফ্রিজের মতো যন্ত্রপাতিগুলো দূরে রাখুন। এসব যন্ত্রপাতি থেকে নির্গত তাপ থার্মোস্ট্যাটকে বিভ্রান্ত করতে পারে। এগুলো এসিকে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে প্ররোচিত করতে পারে।
সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় চালু না রাখা
এয়ারকন্ডিশনারটিকে কখনও সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় চালু রাখবেন না। অনেকের ধারণা, রুম ঠান্ডা রাখতে এসিকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা যাবে, যা সম্পূর্ণ ভুল। ভারতের ব্যুরো অব এনার্জি এফিসিয়েন্সির এক তথ্য অনুযায়ী, মানবদেহের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা হলো ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সুতরাং এসিকেও সেই তাপমাত্রায় রাখতে হবে। এতে শরীরও ভালো থাকবে, বিদ্যুৎ খরচও কম হবে।
সার্ভিসিং করানো
সারা বছর এসি ব্যবহার করা হয় না। বিশেষ করে শীতকালে। এর ফলে এতে ধুলাবালি জমে থাকে। এ কারণে রুম ঠান্ডা করার জন্য এসিকে অতিরিক্ত শক্তি খরচ করতে হয়। যার প্রভাব পড়ে ইলেক্ট্রিসিটি বিলে। এছাড়াও এসি ব্যবহারের সময় ফিল্টারে ময়লা জমতে পারে। তাই, মাসে অন্তত একবার ফিল্টারটি বের করে ওয়াশক্লথ দিয়ে পরিষ্কার করুন।
টাইমার ব্যবহার
সব এসিতেই টাইমার থাকে। এর সাহায্যে সারারাত এসি না চালিয়ে নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত চালানো যেতে পারে। রাতে ঘুমানোর সময় অনেকক্ষণ এসি চললে রুম এবং শরীর ঠান্ডা হয়ে থাকে। তাই টাইমার সেট করে রাখা শরীরের জন্য ভালো। এভাবে টাইমার সেট করে দিলে নির্দিষ্ট সময় পর এসি বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে বিদ্যুৎ কম খরচ হবে।