প্রখর রোদে ভরা কোনো দিনে হঠাৎ গাছপালায় ঘেরা একটি জায়গায় গেলে যে স্বস্তি পাওয়া যায়, তা আমরা অনেকেই অনুভব করেছি। এর পেছনে রয়েছে গাছের নিজস্ব এক প্রাকৃতিক ক্ষমতা, যা পরিবেশকে শীতল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গাছকে অনেকেই প্রাকৃতিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা “এয়ারকন্ডিশনার” বলে থাকেন। বড় গাছের ঘন ছায়া সরাসরি সূর্যের তাপ কমিয়ে চারপাশকে ঠান্ডা রাখে। তবে শুধু ছায়াই নয়, গাছের ভেতরে চলা একটি বিশেষ প্রক্রিয়াও পরিবেশকে শীতল করতে সাহায্য করে।
গাছ তার খাদ্য তৈরির জন্য শিকড়ের মাধ্যমে মাটি থেকে প্রচুর পানি শোষণ করে। এরপর তাপমাত্রা বেশি থাকলে পাতার অসংখ্য সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে সেই পানি জলীয় বাষ্প আকারে বাতাসে ছড়িয়ে দেয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় “বাষ্পমোক্ষণ”। এর ফলে চারপাশের তাপমাত্রা কমে আসে এবং পরিবেশ তুলনামূলকভাবে শীতল হয়ে ওঠে।
এই বাষ্প উপরে উঠে মেঘ তৈরিতেও ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে সেই মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়, আর বৃষ্টির পানি আবার মাটিতে ফিরে আসে। এভাবেই গাছপালা প্রাকৃতিক জলচক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে এবং পরিবেশকে আরও আরামদায়ক রাখে।
একটি মাঝারি আকারের গাছের পাতার বিস্তৃতি মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জায়গার সমান হতে পারে। তাই যেখানে গাছপালা বেশি থাকে, সেখানে বাষ্পমোক্ষণও বেশি হয়, মেঘ গঠনের সম্ভাবনা বাড়ে এবং বৃষ্টিপাতও তুলনামূলক বেশি হয়। ফলে ওইসব এলাকার আবহাওয়া স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা শীতল ও আরামদায়ক থাকে।
এই কারণেই শহরের কংক্রিটের ভিড়ের তুলনায় গাছপালায় ঘেরা এলাকা অনেক বেশি ঠান্ডা ও স্বস্তিদায়ক মনে হয়।



