দিনশেষে যখন ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরবেন, তখন ঘরের পরিবেশই প্রথম প্রভাব ফেলে আপনার মেজাজে। ছড়ানো জিনিসপত্র, বেহাল টেবিল বা অপরিচ্ছন্ন ঘর সহজেই বিরক্তি তৈরি করতে পারে। তাই সঠিক অন্দরসজ্জা শুধু বাড়ির সৌন্দর্য বাড়ায় না, মনকেও প্রশান্ত রাখে।
রঙ
বাড়িতে যেকোনো ঘরে রংয়ের গুরুত্বপূ্র্ণ ভূমিকা থাকে। একইসঙ্গে কিছু কিছু রং আমাদের মনেও প্রভাব ফেলে। বসার ঘর হোক বা শোবার ঘর, রংয়ের সঙ্গে আলোর সম্পর্ক থাকে। হালকা সবুজ, ধূসর, ল্যাভেন্ডার বা লেমনেডের মতো হালকা রং চোখকে আরাম দেয় এবং ঘরকে উজ্জ্বল করে। বিশেষ করে কম আলো থাকা ঘরে এই ধরনের রং ব্যবহার করলে মনও শান্ত থাকে।
প্রকৃতির ছোঁয়া
এক টুকরো বাগান যেমন মন ভালো করে দেয় তেমনি সবুজের উপস্থিতি, প্রাকৃতিক আলো এবং খোলা বাতাসের সংমিশ্রণ মানসিক শান্তি এনে দেয়। ঘরের একাংশ সাজিয়ে রাখুন আরামের জন্য, সেখানে রাখা একটি আরামদায়ক সোফা বা গদি, কিছু গাছপালা, টাটকা ফুল আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।
আসবাব
যেকোনো ঘরে অপ্রয়োজনীয় আসবাবের ভিড় বিরক্তিকর। চলাচলে অসুবিধা হলে মানসিক চাপও বাড়ে। তাই প্রয়োজনীয় আসবাব বেছে নিন, স্থান বাঁচাতে ভাঁজ করা টেবিল, সোফা-বেডের মতো ফাংশনাল জিনিস ব্যবহার করুন।
আলো
আলোর সঙ্গে মনের যোগ রয়েছে। যে ঘরে আলো ঢোকে না সে ঘর স্যাঁতসেতে থাকে এবং তেমন পরিবেশ কিন্তু কারও পছন্দ হয় না। তাই ঘর কীভাবে প্রাকৃতিক আলোয় ভরবে, সেদিকে নজর দেওয়া দরকার। জানালা কাচের হলে, হালকা পর্দা ব্যবহার করলে ঘরে আলো আসবে। আবার যে অংশে সূর্যের আলো আসে, সেখানে বড় আয়না রাখলে আলো ঘরে প্রতিফলিত হবে। প্রাকৃতিক আলোর অভাব থাকলে কৃত্রিম আলো সুকৌশলে ব্যবহার করতে হবে। অনেক সময় বিভিন্ন কৌণিক অবস্থানে লাগানো সিলিংয়ের আলোও ঘরে মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে। ক্লান্ত শরীর এলিয়ে দেওয়ার পর চড়া আলো ভালো লাগে না। তখন কিন্তু এমন আলো মন ভালো করে দিতে পারে। ক্লান্ত শরীর এলিয়ে দিলে নরম আলো মনকে প্রশান্ত রাখে।
বাথরুম
ক্লান্তি কাটানোর ভালো উপায় ঈষদুষ্ণ পানিতে গোসল করা। বাথটাব থাকলে বিষয়টি আরও উপভোগ্য হতে পারে। বাথরুম শুধু পরিচ্ছন্ন রাখা যথেষ্ট নয়, সাজও গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরভাবে সাজানো বাথরুম, শুকনো মেঝে, সবুজের উপস্থিতি, সুগন্ধি মোম; এসব মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি করে।
ঘরের রং, আলো, প্রকৃতির স্পর্শ, আসবাব এবং বাথরুমের সাজ - এসবের সঠিক সমন্বয় বাড়ির অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য বাড়ায় এবং দিনের শেষে মনকে শান্তি ও আনন্দ দেয়। সঠিক অন্দরসজ্জা শুধুমাত্র চোখকে নয়, মনেরও প্রশান্তি দেয়। তাই ঘর সাজানোর সময় শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, নিজের আরামের দিকেও সমান গুরুত্ব দিন।



