একদম পেশাগতভাবেই ঘটকালি করছে চ্যাট জিপিটি। নিখুঁত জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে সাহায্য করছে অনলাইন ব্যবহারকারীদের। এর জন্য শুধুমাত্র ডেটিং অ্যাপেই এটিকে সংযুক্ত করে ব্যবহার করলেই হবে। সম্প্রতি, এমনই একটি ঘটনা ঘটে গিয়েছে রাশিয়ায়, যেখানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স চ্যাট জিপিটি একজন ব্যক্তিকে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে নিজের স্ত্রীকে খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে।
রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা “আরআইএ নভোস্তি” অনুসারে, ২৩ বছর বয়সী সফটওয়্যার ডেভেলপার আলেকজান্ডার জাদান “টিন্ডার”-এ ম্যাচ খুঁজতে চ্যাট জিপিটি এবং অন্যান্য এআই বট ব্যবহার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রায় ৫,০০০ মেয়ের সঙ্গে চ্যাট করার পরে কারিনা ইমরানোভনা নামে একটি মেয়েকে তার জন্য উপযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নিখুঁত মিল খুঁজে পেতে প্রায় এক বছর লেগে গিয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে আলেকজান্ডার বলেন, “আমি কীভাবে কথা বলি তা চ্যাটজিপিটিকে বলিনি। তাই প্রথমে কিছু সমস্যা হয়েছিল, কারণ এই প্রোগ্রামটি আমার ব্যবহার,আচরণ সম্পর্কে অজ্ঞাত ছিল। খুব শিশুসুলভ কথা বলছিল এটি। কিন্তু পরে আমি চ্যাটজিপিটিকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলাম যে এটি আমার কথা বলার ধরন অনুসারে মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করে। এই এআই বট খারাপ ম্যাচগুলোকে সরিয়ে আসল জীবনসঙ্গীকে খুঁজে দিয়েছে।”
আলেকজান্ডার জানান, চ্যাট বট তার হয়ে দারুণ কথা বলেছে। অবশেষে নিখুঁত পার্টনার হিসেবে কারিনাকেও প্রেমের প্রস্তাব দিতেও সাহায্য করেছে।
তিনি বলেন, “২০২৩ সালের শেষে চ্যাট জিপিটি আমাকে কারিনাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে বলেছিল। একমাত্র কারিনাকে দেখেই তার মনে হয়েছিল যে সে আমাদের সম্পর্কে ভারসাম্য বজায় রাখবে এবং আরও শক্তিশালী করবে।”
যদিও কারিনা জানতেন না যে আলেকজান্ডার তার সঙ্গে এআই এর সাহায্যে চ্যাট করছেন। কিন্তু যখন তিনি এই সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন, তখনও এই বিষয়টি তার মনে খুব বেশি দাগ কাটেনি, তাদের প্রেমের ক্ষেত্রে খুব বেশি পার্থক্য আনেনি। এখন কারিনা এবং আলেকজান্ডার বিবাহিত। উভয়েই একে অপরকে নিজেদের নিখুঁত ম্যাচ হিসেবে মনেও করছেন।