মুখে মুখে ঘোরা বাংলার প্রচলিত একটি প্রবাদ হলো- পৌষের শীত মোষের গায়ে, মাঘের শীত বাঘের গায়ে! এই প্রবাদ অবশ্য এখন খুব একটা টের পাওয়া যায় না। ডিসেম্বরেও যেখানে কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম, সেখানে ধরে নেওয়া যায় হাড় কাঁপানো শীতের ধারণাটি ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে। তবে আমরা যেমন আমোদপ্রিয়, তেমনই শীত-বিলাসীও। তাই অনেকেই এই “ঘাম ঝরা” শীতেও গোসলে গিয়ে ঈষদুষ্ণ পানি গায়ে ঢালছেন। তবে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, শীতে ঠান্ডা পানিতে গোসল করার সাহস দেখাতে পারলে, মৌসুমি অসুখ-বিসুখ থেকে দূরে থাকা যাবে।
গোটা শীতকাল জুড়েই নানা শারীরিক সমস্যা পিছু ধাওয়া করে। সর্দি-কাশি থেকে গাঁটে গাঁটে ব্যথা, অসুস্থতায় জর্জরিত হয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকদের মতে, শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে তলানিতে এসে ঠেকে। আর সেই কারণেই রোগবালাই সহজেই বাসা বাঁধে শরীরে।
সমীক্ষা জানাচ্ছে, শীতে ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে মৌসুমি রোগের ঝুঁকি ২৯% কমে যায়। তা ছাড়াও, ঠান্ডায় শীতল পানিতে গোসল করার আরও অনেক উপকারিতা আছে। ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না। প্রদাহজনিত সমস্যাও দূরে থাকে। শীতে ঠান্ডা পানিতে গোসল করার এমন বিবিধ উপকার আছে। তবে এই অভ্যাসে একটু রাশ না টানলেও মুশকিল হতে পারে বলে মত চিকিৎসকদের। বিশেষ করে ত্বকে এর প্রভাব পড়তে পারে। চর্মরোগ চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শীতে এমনিতেই ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে সেই সমস্যা বেড়ে দ্বিগুণ হতে পারে।
শীতে নিত্যদিন ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে ত্বকের কী কী সমস্যা হতে পারে?
১) ত্বক খসখসে হয়ে পড়ে। আর্দ্রতার অভাবে ত্বকের নিজস্ব জেল্লাও উবে যেতে পারে। ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে ত্বক।
২) ত্বকে অস্বস্তি হয়। চুলকানি, জ্বালা ভাব, লাল হয়ে যাওয়ারও ঝুঁকি থাকে।
৩) স্পর্শকাতর ত্বক হলে ঠান্ডায় হিমশীতল পানিতে গোসল করার অভ্যাসে হতে পারে এগজিমাও।
তা হলে উপায়?
চর্মরোগ চিকিৎসকদের পরামর্শ, শীতে একেবারে ঠান্ডা পানিতে গোসল করা ঠিক হবে না। বরং ঈষদুষ্ণ পানিতে গোসল করতে পারলে ভালো। তাতে দু’দিকই রক্ষা হয়। ত্বকের সমস্যাও এড়ানো যায়, আবার শীতের সকালে গোসল সময় আরামও মেলে।