রান্না করতে ভালবাসেন এমন অনেকেই আছেন যারা নানা ধরনের পদ রেঁধে, সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করেন। কেউ জানতে চাইলে পাকপ্রণালীও লিখে দেন। তবে “কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের” মতো গুছিয়ে ভিডিও বানাতে পারেন না।
অনেকের ধারণা, এই ধরনের পেশাদার ভিডিও বানাতে দক্ষ ভিডিওগ্রাফার লাগে। অবশ্য এই ধারণাটি অযৌক্তিক নয়। তবে সেটি আবার বেশ খরচসাপেক্ষ।
কিন্তু ইচ্ছে থাকলে বেশি খরচ না করেও নিজেই নিজের রান্নার মানসম্পন্ন ভিডিও বানাতে পারেন। এজন্য মেনে চলতে হবে কিছু কৌশল। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে-
ব্যাকড্রপ
রান্নাঘরের দেয়ালে তেল, ঝুল, কালি— যা-ই থাক, ক্যামেরায় যেন তা ধরা না পড়ে সেজন্য একটি ব্যাকড্রপ সেট করা জরুরি। তাকের ওপর মশলার কৌটাগুলো এমনভাবে রাখুন, যাতে দেখতে ভালো লাগে। কোন দেওয়ালে কী রাখলে ক্যামেরায় তা সুন্দর দেখাবে, তা নিয়ে আগে থেকে একটু স্টাডি করে নিতে পারলে ভালো হয়।
যেখান থেকে শট নেবেন
ক্যামেরায় যিনি রাঁধেন, তিনিই ভিডিও শুট করেন; এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। তবে রান্না করতে করতে ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, তবে আগে থেকে পরিকল্পনা করা থাকলে সমস্যা হবে না। কোন অ্যাঙ্গল থেকে, কত দূরে ক্যামেরা বা মোবাইল রাখলে দেখতে ভালো লাগবে, তা আগে থেকে দেখে নিতে হবে।
আলোর ব্যবস্থা
দিনের আলোয় কাজ হয়ে গেলে সমস্যা নেই। কিন্তু শুটিং যদি রাতের বেলা হয় কিংবা রান্নাঘরে যদি পর্যাপ্ত আলো না পৌঁছায়, সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। ছবি এবং ভিডিওর ক্ষেত্রে একই রকম আলো প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন অনুযায়ী তীব্রতা কম-বেশি করা যায়, এমন লাইট আজকাল বাজারে পাওয়া যায়। চাইলে তেমন একটি লাইট কিনে নিতে পারেন।
রান্নার সরঞ্জাম
শুটিংয়ের সময়ে কালিঝুলি মাখা পুরনো হাঁড়িকুড়ি ব্যবহার না করাই ভালো। রান্না তো ভালো হওয়া চাই-ই। তবে দর্শক-অনুরাগীদের চোখ, মন, জিভ— নিয়ন্ত্রণ করতে সাজ-সরঞ্জামে চাকচিক্যও জরুরি।
এডিটিং
ভিডিও পোস্ট করার করার ক্ষেত্রে একেবারেই তাড়াহুরো করা করা যাবে না। নিজের ছবি পোস্ট করার সময়ে যেমন নানা ধরনের ফিল্টার ব্যবহার করেন, ভিডিও পোস্ট করার ক্ষেত্রেও তেমনটা প্রযোজ্য। আজকাল নানা ধরনের এডিটিং অ্যাপ পাওয়া যায়। সেগুলোর সাহায্যে শখের রাঁধুনির পাশাপাশি একেবারে পেশাদার ভিডিওগ্রাফারও হয়ে উঠতে পারেন।